📌 ৬২ বছর বয়সী রাজশাহীর ইনামুল হক এক চোখে আলো না থাকায় পত্রিকা বিলি করছেন। ৪০ বছর ধরে তিনি পত্রিকা বিলি করছেন, এর মধ্যে ২৮ বছর প্রথম আলো বিলি করছেন। ইন্টারনেটের যুগেও তিনি হাতে হাতে পত্রিকা বিতরণের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন
৬২ বছর বয়সেও এক চোখে আলো না থাকায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা নিয়ে পত্রিকা বিলি করছেন রাজশাহীর টাঙ্গন গ্রামের ইনামুল হক। এক চোখে আলো না থাকলেও তিনি ৪০ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করছেন। এর মধ্যে ২৮ বছর ধরে তিনি প্রথম আলো পত্রিকার বিলি করছেন। প্রতিদিন ভোরে সাইকেলে করে তিনি পত্রিকা বিতরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬২ বছর বয়সী ইনামুল হক এক চোখে আলো না থাকায় ৪০ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করছেন
- 📌 ২৮ বছর ধরে তিনি প্রথম আলো পত্রিকার বিলি করছেন, দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ কপি বিক্রি করেন
- 📌 একসময় দৈনিক ৫০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করতেন, বর্তমানে বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ কপিতে
- 📌 ইন্টারনেটের যুগেও তিনি হাতে হাতে পত্রিকা বিতরণের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন
- 📌 নিজের চোখের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণদের মুঠোফোন ছেড়ে পত্রিকা পড়ার পরামর্শ দেন
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার টাঙ্গন গ্রামের ইনামুল হক (৬২) জন্মের পর থেকেই এক চোখে আলো দেখতে পারছেন না। অন্য চোখের আলোও ঝাপসা হলেও তিনি থেমে নেই পত্রিকা বিলির কাজে। প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এক হাতে পত্রিকার বান্ডিল আর অন্য হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে পাঠকের বাড়িতে পৌঁছে দেন পত্রিকা। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৪০টি বছর।
গত সোমবার ভোরে রাজশাহী নগরের রেলগেটের গৌরহাঙ্গা এলাকায় ইনামুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি সংবাদপত্র এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা নিচ্ছিলেন। এরপর সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় পত্রিকা বিলি করতে বের হবেন। রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত—কোনো কিছুই তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
একসময় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করতেন ইনামুল হক। এখন বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০টিতে। এর মধ্যে প্রথম আলো বিক্রি করেন ৪০ থেকে ৪৫ কপি। ইনামুল হকের জীবনে নানা চড়াই-উতরাই হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তখন পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি জমিতে ধান কাটার কাজও করতাম। আমার কিছুই ছিল না। দাদির কাছে মানুষ হয়েছি। এই পত্রিকা বিক্রি করেই তিন সন্তানকে মানুষ করেছি। পাঁচ কাঠা জমি কিনেছি; বাড়ি করেছি। এটাই আমার সম্বল।’
ইনামুল হকের পড়াশোনা শুরু রাজশাহীতে। পরে চাচার চাকরিসূত্রে বিভিন্ন জেলায় পড়েছেন। চাচার বদলির কারণে আবার রাজশাহীতে ফিরে আসেন। ভর্তি হন কাটাখালী স্কুলে। সেখান থেকেই মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর এক চাচাতো ভাই সাংবাদিকতা করতেন। তাঁর পরামর্শে আশির দশকে অল্প কয়েকটি পত্রিকা নিয়ে বিক্রি শুরু করেন। পরে বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা নিয়ে পরিধি বাড়ান।
ইনামুল হক বলেন, ‘নিজের চোখের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে ছাপা পত্রিকা পড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছি। এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকে পত্রিকা পড়েন না। বই পড়ার অভ্যাসও তেমন নেই। সবাই মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। চোখ ভালো রাখতে তরুণদের মুঠোফোন ছেড়ে পত্রিকা পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’
"আমার কিছুই ছিল না। দাদির কাছে মানুষ হয়েছি। এই পত্রিকা বিক্রি করেই তিন সন্তানকে মানুষ করেছি। পাঁচ কাঠা জমি কিনেছি; বাড়ি করেছি। এটাই আমার সম্বল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, চারঘাট উপজেলা, টাঙ্গন গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইনামুল হক (৬২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর পত্রিকা বিলি, ২৮ বছর প্রথম আলো বিলি, ৬২ বছর বয়স, ৫০০ কপি (প্রাক্তন বিক্রি), ১৬০ কপি (বর্তমান বিক্রি), ৪০-৪৫ কপি (প্রথম আলো বিলি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!