📌 বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, মানুষের নিঃশ্বাস ও বিপাকক্রিয়ায় ২০১৫ সালে বায়ুমণ্ডলে মিশে ২০৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়েছিল। ১৯৮৫ সাল থেকে এই পরিমাণ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে
বায়ুমণ্ডলে মিশে ২০৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড! বিজ্ঞানীরা নতুন গবেষণায় প্রকাশ করেছেন, মানুষের নিঃশ্বাস ও শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া থেকে প্রতি বছর এই পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই পরিমাণ ১৯৮৫ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৫ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ১১৮ কোটি মেট্রিক টন, যা ৩০ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি মেট্রিক টনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৫ সালে মানুষের বিপাকক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে মিশে ২০৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়েছিল, যা ১৯৮৫ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি
- 📌 গবেষণায় ৬,৭৫৬ জন মানুষের দৈনন্দিন শক্তি ব্যয়ের ডেটা ব্যবহার করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে, যাদের বয়স ছিল শৈশব থেকে ১০১ বছর
- 📌 এই বৃদ্ধির ৬০ শতাংশেরও বেশি বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের কার্বন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি
- 📌 গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে The Lancet Planetary Health জার্নালে, DOI: 10.1016/j.lanplh.2026.10154
📰 বিস্তারিত
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎস অনেক। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া থেকে প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে মিশে ২০৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই পরিমাণ ১৯৮৫ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৫ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ১১৮ কোটি মেট্রিক টন। বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) ডেটাবেজ থেকে ৬,৭৫৬ জন মানুষের দৈনন্দিন শক্তি ব্যয়ের তথ্য ব্যবহার করে এই হিসাব তৈরি করেছেন। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা বয়স, লিঙ্গ ও শরীরের ওজনের সঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদনের গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, এই বৃদ্ধির ৬০ শতাংশেরও বেশি বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। অর্থাৎ, পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ায় সম্মিলিতভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎপাদন বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষের নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইডকে জীবাশ্ম জ্বালানির কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কারণ, মানুষের শরীরের বিপাকক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন চক্রের অংশ।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, মানুষের নিঃশ্বাসকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী করা নয়, বরং পৃথিবীর কার্বন কোথা থেকে আসছে এবং কোথায় যাচ্ছে, তার আরও নির্ভুল হিসেব তৈরি করা। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর কার্বন প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং বৈশ্বিক কার্বন চক্রের মডেল উন্নত করতে এই হিসাব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
"গবেষণাটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মডেলভিত্তিক অনুমান। জলবায়ু পরিবর্তন বুঝতে শুধু শিল্পকারখানা, যানবাহন কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে তাকালেই চলবে না; জীবজগতের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াও বিপুল পরিমাণ কার্বনের চলাচলের অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (পৃথিবীর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা (গবেষক দল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৫ কোটি মেট্রিক টন (২০১৫), ১১৮ কোটি মেট্রিক টন (১৯৮৫), ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!