📌 গোপালগঞ্জের ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা ছয় সন্তানের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে গাছের নিচে বাস করছেন। সন্তানরা তার জমি বিক্রি করে দেওয়া টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে
গোপালগঞ্জের উত্তর হিরণ গ্রামের ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের শেষ পর্যায়ে ছয় সন্তানের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে গাছের নিচে বাস করছেন। তার সন্তানরা নিজেদের সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বৃদ্ধের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা তার ছয় সন্তানের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে গাছের নিচে বাস করছেন।
- 📌 তার দুই ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার।
- 📌 শামসুল হক মোল্লা তার জমি বিক্রি করে হজ করতে গিয়েছিলেন এবং বাকি জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন।
- 📌 সন্তানদের মতে, বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন এবং দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছিলেন।
- 📌 বৃদ্ধের ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বড় মেয়ে মায়া বেগম স্বামীর অসুস্থতা ও বাড়িতে প্রতিবন্ধী বোন থাকার কারণে তাকে বাড়িতে রাখতে পারছেন না।
📰 বিস্তারিত
৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন। তবে শেষ পর্যায়ে সন্তানদের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি গাছের নিচে বাস করছেন।
শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা একজন ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।
গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন তিনি বাকি জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি কোনো সন্তানের কাছেই আশ্রয় পাননি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
"আমার স্বামী অসুস্থ। তার ওপর আমার বাড়িতে আমার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারণে আমার পক্ষে বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।"
মেজো মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, “আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করব?”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর হিরণ গ্রাম, কোটালীপাড়া উপজেলা, গোপালগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫), মায়া বেগম, সাবিনা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৫ বছর বয়স, ৬ সন্তান, ৪ লাখ টাকা, ৮ কাঠা জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!