📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকার মনোয়ারা বেগমের ১০ বছরের কষ্টের সঞ্চয় জর্দার কৌটায় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। স্বামী মৃত্যুর পর জীবিকা হারানোর কারণে টাকার প্রয়োজনে কৌটা খুলে দেখলেন, সঞ্চয় আর ব্যবহারযোগ্য নয়
শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরের এক নারী ১০ বছরের কষ্টের সঞ্চয় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। স্বামী মৃত্যুর পর জীবিকা হারানোর কারণে জর্দার কৌটায় জমানো ২ লাখ টাকা খুলে দেখলেন, সেগুলো টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। মনোয়ারা বেগমের জীবনের এই দুঃখজনক ঘটনা এলাকাবাসীদের মধ্যে শোকের তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকার মনোয়ারা বেগমের ১০ বছরের সঞ্চয় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে জর্দার কৌটায়
- 📌 স্বামী জিয়া উদ্দীন মৃত্যুর পর জীবিকা হারানোর কারণে টাকার প্রয়োজনে কৌটা খুলে দেখলেন, সঞ্চয় আর ব্যবহারযোগ্য নয়
- 📌 ২ লাখ টাকার সঞ্চয় ছিল মনোয়ারা ও জিয়া উদ্দীনের শেষ সম্বল, যা বালু-পাথর বিক্রি ও মিষ্টি তৈরির কাজ থেকে জমিয়েছিলেন
- 📌 ভোগাই নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করা কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, যা ছিল মনোয়ারার একমাত্র জীবিকা
- 📌 এলাকাবাসীরা মনোয়ারার দুঃখের কথা শুনে কষ্ট পেয়েছেন, তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন
📰 বিস্তারিত
মনোয়ারা বেগমের স্বামী জিয়া উদ্দীন মারা যাওয়ার তিন মাস আগে তিনি দুঃখের সাথে স্বীকার করেন, "আমার স্বামী মারা গেছে তিন মাস হইলো। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। আগে ভোগাই নদী থেকে পাথর বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন নদীতে পাথরও নেই। আল্লাহ আমার শেষ সম্বলটাও নষ্ট করে দিলেন।" মনোয়ারা ও জিয়া উদ্দীন দীর্ঘদিনের কষ্টের উপার্জন থেকে ১০ বছরের মধ্যে ২ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকাগুলো জর্দার কৌটায় রাখা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনে কৌটা খুলে দেখলেন, টাকাগুলো ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
মনোয়ারা বেগমের বাসস্থান শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরের পুরাতন জেলখানা রোডে। তিনি বলেন, "এই টাকাডা আমার শেষ সম্বল ছিল। স্বামী নাই, কামকাজও নাই। মেয়েগো বিয়া দিয়েছি অনেক কষ্টে। দশ বছর ধরে একটু একটু করে টাকা জমাইছিলাম। ভাবছিলাম, বিপদের সময় এই টাকাডা কাজে লাগবে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।"
এলাকাবাসী মিলন শেখ বলেন, "মনোয়ারা ও তাঁর স্বামী জিয়া দুজনই খুব কষ্ট করে সংসার চালাতেন। জিয়ার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে টাকা নষ্ট হওয়ার কথা শুনে সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছি। তাঁদের বাসায় গিয়েছিলাম। মনোয়ারা এখন শুধু কাঁদেন।" প্রতিবেশী সাদ আল জুনায়েদ বলেন, "দীর্ঘদিন কষ্ট করে সঞ্চয় করা এই টাকা মনোয়ারার কাছে শুধু অর্থ ছিল না; ছিল স্বামীর মৃত্যুর পর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।"
"আমার শেষ সম্বলটাও নষ্ট হয়ে গেল। আল্লাহ আমার আর কী রাখছে, জানি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহর, পুরাতন জেলখানা রোড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনোয়ারা বেগম, জিয়া উদ্দীন, মিলন শেখ, সাদ আল জুনায়েদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর, ২ লাখ টাকা, ৫০ বছর (ইসমাইল হোসেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!