📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এনসিসি ও এসবিএসি ব্যাংক নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে। এনসিসি ব্যাংক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান নির্বাচনের পদ্ধতি চালু করেছে, আর এসবিএসি ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের দু’টি ব্যাংক নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। এনসিসি ব্যাংক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যান নির্বাচনের নিয়ম চালু করেছে, যেখানে সব শেয়ারহোল্ডার পরিচালকই একসময় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাবেন। অন্যদিকে, এসবিএসি ব্যাংক প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **এনসিসি ব্যাংক**: ১২তম বিশেষ সাধারণ সভায় সংঘবিধি সংশোধন করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান নির্বাচনের নিয়ম প্রবর্তন করেছে; আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে
- 📌 **এসবিএসি ব্যাংক**: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকারকে ১ বছরের জন্য চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে; শেয়ারধারী পরিচালকদের মধ্যে ভাবমূর্তি সমস্যা ও রাজি না হওয়ার কারণে
- 📌 **ব্যাংক সংস্কার**: বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালকদের যোগ্যতা মূল্যায়ন কাঠামো (১০০ নম্বরের) প্রবর্তন করেছে; ১২টি ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে
- 📌 **খেলাপি ঋণ**: এনসিসি ও যমুনা ব্যাংক উভয়ই খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে
- 📌 **চেয়ারম্যানের মেয়াদ**: যমুনা ব্যাংক ১ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করেছে, অন্যদিকে এনসিসি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে ২ বছরের মেয়াদ রাখছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংক দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংক খাতের সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে। পরিচালকদের যোগ্যতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) জন্য ১০০ নম্বরের একটি মূল্যায়ন কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে।
এনসিসি ব্যাংক সম্প্রতি ১২তম বিশেষ সাধারণ সভায় সংঘবিধি সংশোধন করে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী শেয়ারহোল্ডার পরিচালক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেলে, আগামী অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এতে করে ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তনের অসম প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তি পাবে এবং সবাই ব্যাংকের উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করতে পারবেন।
এসবিএসি ব্যাংকেও নতুন প্রজন্মের স্বতন্ত্র নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ব্যাংকের বর্তমান পরিচালকদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না। আবার যাঁরা আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এ কারণে পরিচালনা পর্ষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকারকে ১ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আগের স্বতন্ত্র পরিচালকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। আমি নতুন ধারা তৈরি করার চেষ্টা করবো, যাতে অন্যান্য ব্যাংকগুলো সেটি অনুসরণ করতে পারে।’
"আগে থেকে যেভাবে চলে আসছে তা যে ব্যর্থ হয়েছে, সেটি আজ প্রমাণিত। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ব্যাংক খাতে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেয়ারধারী পরিচালকেরা মনে করেছেন, একটা পরিবর্তন দরকার। তাই তাঁরা সবাই মিলে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।"
যমুনা ব্যাংকও চেয়ারম্যান পরিবর্তনের নতুন ধারা অনুসরণ করে আসছে, যা ব্যাংকটির ভাবমূর্তি ও আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে। খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় ব্যাংকটি দেশের শক্তিশালী ব্যাংকসমূহের মধ্যে স্থান পেয়েছে। এনসিসি ব্যাংকও খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ব্যাংক সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মাকছুদুর রহমান সরকার (এসবিএসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান), পরিচালকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ (মূল্যায়ন নম্বর), ৫ (খেলাপি ঋণ শতাংশ), ১২ (১২তম বিশেষ সাধারণ সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!