📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত
তাসমিয়া প্রধান

তাসমিয়া প্রধান

Tasmia Prodhan
🏛️ সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৭, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ)
অন্যান্য রাজনৈতিক দল অন্যান্য রাজনৈতিক দল
🌍 বাংলাদেশি

✨ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তাসমিয়া প্রধান — সংসদ সদস্য (মহিলা আসন-47)

📋 জীবনী

তাসমিয়া প্রধান একজন বাংলাদেশী আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্য।

প্রারম্ভিক জীবন

তাসমিয়া ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের বগুড়ায় তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের তোকরাভাষা গ্রামে। ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৯৮ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করার পর তিনি ভূইঁয়া একাডেমী থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করে আইনে স্নাতক করার উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে ব্রিটেনে গমন করেন। সেখান থেকে ২০০৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্নের পর সিটি সেন্ট জর্জ'স থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন এবং লিংকনস্‌ ইন থেকে বার এট ল সম্পন্ন করার মাধ্যমে ব্যারিস্টার হয়ে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ফিরেন।

কর্মজীবন

বাংলাদেশে ফিরে তাসমিয়া ডক্টর হামিদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে যোগ দেন। সেখানে এক বছর কাজ করে তিনি ২০০৯ সালে মওদুদ আহমদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে যোগ দেন। সেখানে তিনি ছয় বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং তিনি নিজস্ব আইন চেম্বার তাসমিয়া প্রধান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করার উদ্দেশ্যে ১৯ জোড়া যমজ সন্তানের অভিভাবক আবেদন করলে লটারিতে প্রতিটি জোড়া থেকে ১ জন শিশু নির্বাচিত হলে অভিভাবকগণ জোড়ার বাকি শিশুদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করে, যাদের পক্ষ হয়ে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন তাসমিয়া। আদালত অভিভাবকদের পক্ষে মামলায় রায় প্রদান করে। রাজনৈতিক জগতে তাসমিয়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ছিলেন। ২২ অক্টোবর ২০১৮ সালের পর তাকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। একই বছরের ৯ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে তিনি দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরে তিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে দলের আসন ভাগাভাগি নিয়ে তখন তাসমিয়া ও বিশ দলীয় জোটের মধ্য দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরপর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জোট থেকে বেরিয়ে অলি আহমেদ নেতৃত্বাধীন আরেকটি জোট জাতীয় মুক্তি মঞ্চে যোগ দিলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান বিরোধিতা করেন, যার ফলে দলটি ভেঙ্গে দুই ভাগে বিভক্ত হয় এবং তাসমিয়া একটি উপদলের সভাপতি হোন। ২০১৯ সালে তাসমিয়াকে আবার জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিবন্ধন বাতিল করলে দলের পক্ষ থেকে আইনজীবী হিসেবে তাসমিয়া হাইকোর্টে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করে ও আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করে। ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। তাসমিয়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এগারো দলীয় ঐক্য থেকে তাসমিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবন

তাসমিয়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার গমির উদ্দিন প্রধান তার দাদা ছিলেন। কৃষিবিদ ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিচালক শামসুল আলম প্রধান তার চাচা, যিনি ২০২৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মা রেহানা প্রধান শিক্ষাজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির দ্বিতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার ভাই আল রাশেদ প্রধান একজন প্রকৌশলী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র। তাসমিয়া ২০০১ সালে ভূইঁয়া একাডেমীর প্রাক্তন কর্মকর্তা এস বি এ সিদ্দিকীকে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি কন্যা রয়েছে।

📤 শেয়ার: 📘 Facebook 💬 WhatsApp
🤖