📋 জীবনী
জয়নাল আবেদীন (জন্ম: ১২ জানুয়ারি ১৯৫৬), যিনি ভিপি জয়নাল নামে বেশি পরিচিত, একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাথমিক জীবন
জয়নাল আবেদীন ১৯৫৬ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ফেনীর ফলেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চান মিয়া আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা (১৯১১-১৯৪৫) ছিলেন। মাতা অজিবেননেছা ছিলেন গৃহিণী। পিতা-মাতার ৫ সন্তানের মধ্যে জয়নাল সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ১৯৫৯ সালে ফেনী জেলার কাজিরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপ্তির পর ১৯৬৪ সালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৬৯ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭২ সালে বিএ পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
জয়নাল আবেদীন ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হন এবং চট্টগ্রামে তার একটি ইনডেন্টিং ফার্ম এবং ফেনীতে একটি ব্রিক ফিল্ডের ব্যবসা ছিল। পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রবস্থায় জয়নাল রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬২ সালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় ফেনীতে বিক্ষোভ ও রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তিনি ১৯৬৪-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি পুলিশি হামলার শিকার হন এবং গ্রেফতার হয়ে নোয়াখালী কারাগারে কারাবন্দী ছিলেন। ১৯৭০ সালে জেলে থাকা অবস্থায় ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে জয়লাভ করে "ভিপি জয়নাল" নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠিত হলে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ফেনী জেলার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালে ফেনী সরকারি কলেজের ভিপি থাকার কারণে তিনি সর্বদলীয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২ মার্চ ১৯৭১ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ভারতের উত্তর প্রদেশে দেরাধুন ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে আগরতলা হয়ে উদয়পুর বেইস ক্যাম্পে অবস্থান করেন। দেশে এসে তিনি জেলা জোনাল কমান্ডার (বিএলএফ) নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ফেনী শত্রু মুক্ত হয়।
সংসদ সদস্য
তিনি ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে ভিপি জয়নাল জাসদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। পরবর্তীকালে, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি অর্থ, বস্ত্র, পূর্ত ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসন থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (খালেকুজ্জামান) থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
হয়রানি
ভিপি জয়নাল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বচনে প্রার্থী ছিলেন। ভোট গ্রহণের দিন বাংলাদের দুটি জাতীয় পত্রিকায় নামীদামী কোম্পানির মোবাইল ফোন সেটের ওপর 'ডিসকাউন্ট' অফার দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। যাতে ভিপি জয়নাল আবেদিনের ব্যক্তিগত নাম্বার ব্যবহার করা হয়। ‘পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় তাতে বলা হয়, ১৭,৯৯৯ টাকার শাওমি রেডমি নোট-৬ ডিসকাউন্ট দিয়ে বিক্রি হবে ৭,০০০ টাকায়। যে আইফোন ৮-এর দাম ৯২,০০০ টাকা সেটি বিক্রি হবে মাত্র ৩২,০০০ টাকায়’ এতে অনেক গ্রাহক ভিপি জয়নালকে ফোন দিতে থাকেন। আর তার নাম্বারগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তিনি নির্বাচনে কর্মরত নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। গণমাধ্যম বলেছে নির্বাচনের সময় প্রার্থীকে এভাবে ফোন করে হয়রানির নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। জয়নালের দুটি মোবাইল নাম্বার ছাড়াও আরও একটি ফোন নাম্বার দেওয়া হয় যেটি এক সময় ব্যবহার করতেন ফেনী-৩ আসনের সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
পূর্বসূরী: জয়নাল হাজারী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল