📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইন্টারনেট অবকাঠামো বড় ধরনের পরিবর্তন পাচ্ছে। ৩২ কোর ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের প্রতিটি কক্ষে ওয়াইফাই লগইন সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিপ্লবী পরিবর্তন আনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোতে বড় ধরনের উন্নয়ন নিয়ে অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ৩২ কোর ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসের প্রতিটি কক্ষেই ওয়াইফাই লগইন সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ কোর ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেবে
- 📌 শিক্ষার্থীরা লগইন করে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন — একটি কক্ষের চারজন শিক্ষার্থী একসাথে একই ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবে
- 📌 পুরাতন ৪ কোর ফাইবার অবকাঠামোর পরিবর্তে নতুন প্রকল্পে উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা
- 📌 সিসিটিভি ক্যামেরা, অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল রিসোর্স শেয়ারিংসহ উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন অধ্যাপক পাটোয়ারী
- 📌 প্রকল্প বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক পাটোয়ারী
📰 বিস্তারিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইন্টারনেট অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক ড. ফজলুল করিম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী প্রকল্পের আওতায় ৩২ কোরের ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে।
অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রকল্পে ৩২ কোরের ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হলের প্রতিটি কক্ষে ওয়াইফাই থাকবে। একটি কক্ষের চারজন শিক্ষার্থী ওই ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আবাসিক হল নয়, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষেও ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের যেখানেই থাকুক, লগইন করে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।’
বর্তমান ইন্টারনেট অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘জাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যাকবোন অনেক আগে স্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো অনুযায়ী চার কোরের ফাইবার দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন ভবন ও হল তৈরি হয়েছে, যেগুলো পুরোনো অবকাঠামোর অংশ ছিল না। নতুন ভবনগুলোতে সংযোগ দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় ওভারহেড ওয়্যারিংয়ের মাধ্যমে লাইন নিতে হচ্ছে, যা সংযোগের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।’
অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে। সার্ভার ও সফটওয়্যার থাকলেই অটোমেশন সম্পূর্ণ হয় না; শিক্ষার্থী ও ব্যবহারকারীদের কাছে সেই সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রয়োজন। সিসিটিভি ক্যামেরার তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ, অনলাইন ক্লাস, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন ডিজিটাল রিসোর্স শেয়ারিংসহ সব ক্ষেত্রেই উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকলেও সেটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং প্রযুক্তি ও বিশ্বের বিভিন্ন জ্ঞান-সম্পদকে শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার সুবিধাটাই বেশি। এআই ব্যবহারের সমালোচনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির বাইরে রাখা যাবে না; বরং প্রযুক্তির সুবিধা কীভাবে সঠিকভাবে নেওয়া যায়, সেই শিক্ষাটা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সময়ের সঙ্গে শিক্ষাদানের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।’
"আমাদের পরবর্তী প্রকল্পে ৩২ কোরের ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হলের প্রতিটি কক্ষে ওয়াইফাই থাকবে। একটি কক্ষের চারজন শিক্ষার্থী ওই ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ফজলুল করিম পাটোয়ারী (অধ্যাপক, আইআইটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ কোর ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!