📌 কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় থাপ্পড় মারার ঘটনার পর। জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেনকে ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান থাপ্পড় মারেন। ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে লাঠিচার্জ ও স্লোগান দিতে দিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, পুলিশ মোতায়েনের পরও উত্তেজনা অব্যাহত।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেনকে ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান থাপ্পড় মারেন। এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি লাঠিচার্জে পরিণত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুহায়ের হোসেন (দাওয়াহ বিভাগ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) কে আলীনূর রহমান (আরবি বিভাগ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) থাপ্পড় মারেন।
- 📌 ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং আলীনূর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন।
- 📌 আলোচনা সমাপনে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে আলীনূরকে হল থেকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু শিবিরের নেতা-কর্মীরা ইট নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- 📌 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, কিন্তু উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 জুহায়ের দাবি করেন, আলীনূর তাঁকে বেয়াদব বলার পর থাপ্পড় মারেন এবং বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি’।
- 📌 আলীনূর জানান, জুহায়ের তাঁকে গালি দিলে থাপ্পড় দেন, কিন্তু আগে কোনো সমস্যা ছিল না।
📰 বিস্তারিত
ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদ জিয়া হলে উপস্থিত হন। সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার সময় জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে জুহায়েরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন ও সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্ষের বাইরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে আলীনূরকে আনতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় তাঁকে সেখান থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে আলীনূরকে উপস্থিত করতে না পারা এবং শিবিরের নেতা-কর্মীদের উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতারা আলোচনা থেকে উঠে চলে যান। এরপর আবারও ধাক্কাধাক্কি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় আলীনূরকে হল থেকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় শিবিরের নেতা-কর্মীরা আলীনূরের ওপর চড়াও হন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন, আর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
"আমি ক্লাস শেষে অনুষদে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ আলীনূর এসে আমাকে থাপ্পড় মারে এবং গালাগালি করে। পরে কেন আমাকে মারল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি। আপনি কী করতে পারেন করেন’। আমি তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করছি। পাশাপাশি তিনি হলের অবৈধ শিক্ষার্থী। তাঁকে হল থেকে বের করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।"
জুহায়ের হোসেন বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জুহায়ের হোসেন (ছাত্রশিবির সেক্রেটারি), আলীনূর রহমান (ছাত্রদল নেতা), ড. শাহীনুজ্জামান (প্রক্টর), ড. সেলিম রেজা (হল প্রভোস্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১৭ (হল কক্ষ নম্বর), ২০২২-২৩ (জুহায়েরের শিক্ষাবর্ষ), ২০২৩-২৪ (আলীনূরের শিক্ষাবর্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!