📌 মার্ক জাকারবার্গের মতো ধনীদের হাওয়াই দ্বীপে বিশাল ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল নির্মাণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ভয় দেখে বিজ্ঞানীরাও নিজেদের বাঁচার জন্য গোপন বাংকার তৈরির কথা বলছেন। নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের আশ্রয়স্থল নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে
মহাপ্রলয় থেকে বাঁচার জন্য ধনীদের কেন কিনছে দ্বীপ ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল? মার্ক জাকারবার্গের মতো বিশ্বের ধনীদের গোপন প্রকল্পের খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে নতুন ভয় সৃষ্টি করেছে। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাউয়াই দ্বীপে মার্ক জাকারবার্গের বিশাল ‘কুলাউ র্যাঞ্চ’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্ক জাকারবার্গ হাওয়াই দ্বীপের ১ হাজার ৪০০ একর জমি কিনে ‘কুলাউ র্যাঞ্চ’ প্রকল্পে ৫ হাজার বর্গফুট ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল নির্মাণ করছেন, যা ‘ডুমসডে বাংকার’ হিসেবে আশঙ্কিত করা হচ্ছে।
- 📌 ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে জাকারবার্গ ১১টি সম্পত্তি কিনে ৭ হাজার বর্গফুট ভূগর্ভস্থ জায়গা যুক্ত করেছেন, যা প্রতিবেশীদের ‘ব্যাট-কেভ’ বা গোপন আস্তানা বলে ডাকা হচ্ছে।
- 📌 লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ‘অ্যাপোক্যালিপস ইনস্যুরেন্স’ ধারণা অনুযায়ী, পৃথিবীর অর্ধেক ধনী নিজেদের নিরাপদ রাখতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল তৈরি করছেন।
- 📌 ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুতস্কেভার ২০২৩ সালে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) তৈরি হওয়ার আগেই বিজ্ঞানীদের বাঁচার জন্য ভূগর্ভস্থ বাংকার তৈরির কথা বলেছিলেন।
- 📌 নিউজিল্যান্ড বিশ্বের ধনীদের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল নির্মাণের জন্য।
📰 বিস্তারিত
মার্ক জাকারবার্গের ‘কুলাউ র্যাঞ্চ’ প্রকল্পে হাওয়াই দ্বীপের কাউয়াই দ্বীপে ১ হাজার ৪০০ একর জমি কিনে একটি স্বতন্ত্র আশ্রয়স্থল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পে নিজস্ব বিদ্যুৎ ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পের কর্মীদের সঙ্গে গোপনীয়তার চুক্তি করা হয়েছে, ফলে তারা বাইরে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না। জায়গাটি ছয় ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা, যাতে রাস্তার পাশ থেকে ভেতরের কিছুই দেখা যায় না।
২০২৪ সালে জাকারবার্গের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি ছোট্ট আশ্রয়স্থল তৈরি করা। তবে প্রতিবেশীরা এই জায়গাটিকে ‘ডুমসডে বাংকার’ বা মহাপ্রলয় থেকে বাঁচার গোপন আস্তানা বলে আশঙ্কা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে জাকারবার্গ ১১টি সম্পত্তি কিনে ৭ হাজার বর্গফুট ভূগর্ভস্থ জায়গা যুক্ত করেছেন। এই প্রকল্পে তিনি প্রায় ১১ কোটি ডলার খরচ করেছেন। প্রতিবেশীরা এই জায়গাগুলোকে ‘বেজমেন্ট’ বললেও, তারা এগুলোকে ‘ব্যাট-কেভ’ বা গোপন আস্তানা হিসেবে ডাকছেন।
এই ধরনের প্রকল্পের পিছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতি। ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুতস্কেভার ২০২৩ সালে ‘চ্যাটজিপিটি’ চালু করার পর থেকে এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এজিআই চালু হওয়ার আগেই বিজ্ঞানীদের বাঁচার জন্য ভূগর্ভস্থ বাংকার তৈরির প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ভয় দেখে বিশ্বের ধনীরা নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে।
"এজিআই চালু করার আগেই আমরা অবশ্যই একটা ভূগর্ভস্থ বাংকার বানিয়ে ফেলব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাউয়াই দ্বীপ, ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো, নিউজিল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক জাকারবার্গ, ইলিয়া সুতস্কেভার, রিড হফম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৪০০ একর জমি, ৫ হাজার বর্গফুট ভূগর্ভস্থ জায়গা, ১১টি সম্পত্তি, ৭ হাজার বর্গফুট, ১১ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!