📌 রেজা সেলিমের গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকে তথ্যপ্রযুক্তির জনকল্যাণে অবদান এবং ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেছেন। ২০০০-এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গ্রামের মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছিলেন তিনি
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও জনকল্যাণে অবদান রাখা একজন ব্যক্তিত্ব রেজা সেলিমের কথা বলেছেন গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের শুরু থেকে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের কথা। তিনি বলেছেন, ২০০০-এর দশকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করার জন্য শুরু করা এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রেজা সেলিমের কথা: তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম উন্নয়নের জন্য ২০০০-এর দশকে শুরু করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।
- 📌 তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা বুঝতে পারার পর ২০০১ সালে জি–৮ সম্মেলনে ‘উন্নয়নের জন্য আইসিটি’ ধারণার সুপারিশ করা হয়, যেখানে রেজা সেলিম জিকে–১ ও জিকে–২ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
- 📌 রামপাল উপজেলা বাগেরহাটে তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের শুরু, যেখানে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে কম্পিউটার শিক্ষা ও ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে গ্রামবাসীদের জীবন উন্নত করা হয়।
- 📌 তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা গ্রামের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
- 📌 রেজা সেলিমের ব্যক্তিগত উৎসাহে ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে সহজলভ্য করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
রেজা সেলিমের কথায়, তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের শুরুতে ২০০০–০১ সালের দিকে গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের ভিশন ছিল মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রচারিত হোক এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলো যাতে সাধারণ মানুষ পায়।” সেই সময় কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের খরচ ছিল অনেক বেশি। তখন ডায়ালআপ ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হত। তিনি বলেন, “আমরা চিন্তা করেছি কীভাবে এই খরচ কমিয়ে আনা যায় এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে সাশ্রয়ীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।”
তিনি জি–৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণের কথা বলেছেন, যেখানে ২০০০ সালে জাপানের ওকিনাওয়াতে বিশ্বের ক্ষমতাশালী আটটি দেশের সম্মেলনে ডট ফোর্স (ডিজিটাল অপরচ্যুনিটি টাস্কফোর্স) গঠিত হয়। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের প্রস্তাবে এবং জাপানের সমর্থনে তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেজা সেলিম জিকে–১ (গ্লোবাল নলেজ) ও জিকে–২ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় আমি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৩ ও ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তথ্যসমাজ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি।”
রামপাল উপজেলা বাগেরহাটে তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের শুরুতে তিনি বলেন, “রামপাল বাগেরহাট জেলার শ্রীফলতলা গ্রামে অবস্থিত। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাহমুদুল হকের সাথে কাজ শুরু করেছি। তিনি আমাকে এই গ্রামের উন্নয়নের জন্য প্রেরণা দিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “রামপাল ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তখন যশোর-খুলনা হয়ে যেতে সময় লাগত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।”
তিনি বলেন, “প্রকল্পের শুরুতে আমরা ডেটা এন্ট্রি করে ডেটাবেজ তৈরি করতাম। গ্রামের বিভিন্ন তথ্য, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ডেটা সংগ্রহ করতাম। ছেলে-মেয়েরা কম্পিউটার শিখতে আসত এবং এক্সেল, ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট অ্যাকসেস শিখত। তারা নিজেদের পরিবারের তথ্য নিয়ে আসত এবং অনুশীলন করত। এইভাবে আমাদের একটি বড় ডেটাবেজ তৈরি হয়।” তিনি বলেন, “এই ডেটা থেকে আমরা জ্ঞানকেন্দ্রের ধারণা উন্নয়ন করি এবং স্কুলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিতাম। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি বলেন, “আমরা বাবা-মায়েদের কম্পিউটারের গুরুত্ব বোঝাতে চেষ্টা করতাম। তরুণদের ধারণা ছিল যে কম্পিউটার শিখলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা তাদেরকে কম্পিউটারের আরও সম্ভাবনা দেখিয়ে দিতে চেষ্টা করতাম।” তিনি বলেন, “ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পিছনে আমার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য যোগাযোগের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব।”
"আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প দিয়ে শুরু। শুরুর কথা কিছু বলুন। আমরা বুঝতে পারছিলাম যে তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে, তা বুঝলেন কীভাবে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাগেরহাট (রামপাল), কুমিল্লা, জাপানের ওকিনাওয়া, ইতালির রেনোয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, জেনেভা, তিউনিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজা সেলিম, মাহমুদুল হক, প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০ কিলোমিটার (রামপাল থেকে ঢাকা), ১২-১৬ ঘণ্টা (যাত্রা সময়), ২০০০–০১ (প্রকল্পের শুরু), ৮ (জি–৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!