📌 পাকিস্তানে অনলাইন গেমের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ১৫ লাখ শিশু। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি ১৬ জনের মধ্যে একজন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপীড়করা বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ থেকে শুরু করে শিশুদের প্রলুব্ধ করে নিরাপত্তাহীন করে তোলে
পাকিস্তানে অনলাইন গেমের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ১৫ লাখ শিশু। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে প্রতি ১৬ জনের মধ্যে একজন এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অনলাইন গেমের ভিতরে লুকিয়ে এই নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়ছে, যেখানে শিশুরা অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হচ্ছেন এবং তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তানে গত এক বছরে ১৫ লাখ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশ ঘটনা পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটেছে
- 📌 ১৭ বছর বয়সী জারা শাহর (ছদ্মনাম) অনলাইন গেমের মাধ্যমে পরিচিত এক ব্যক্তির হুমকির শিকার হন, যিনি তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার হুমকি দেন
- 📌 ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৪ শতাংশ নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহৃত হয়
- 📌 পাকিস্তানে ৭৪ শতাংশ শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করে, কিন্তু অর্ধেকেরও বেশি শিশু কাউকে বিষয়টি জানায়নি
- 📌 পাঞ্জাব সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাস করেছে
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানি কিশোরী জারা শাহর (ছদ্মনাম) অনলাইন গেম খেলার সময় এক অপরিচিত ব্যক্তির সাথে পরিচিত হন। শুরুতে সে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ শুরু হয়, কিন্তু কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি তার কাছে নগ্ন ছবি চায়। জারা রাজি না হওয়ায় ব্যক্তিটি পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের সঙ্গে জারার কথোপকথনের বিষয়টি জানিয়ে দেবার হুমকি দেয়। পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশের আশঙ্কায় জারা কারও কাছে ঘটনাটি বলতে পারেননি।
ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ ঘটনার নিপীড়কই পরিচিত কেউ। অর্থাৎ অনলাইন নিপীড়নের বড় অংশ অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটে না, বরং পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কারডেফেল্ট এএফপিকে বলেন, নিপীড়করা বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা, উপহার বা অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।
লাহোরভিত্তিক শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা পহচানের পরিচালক মেহেক নাঈম জানান, অপরাধীরা শিশুদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো পরিবার বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ছবি-ভিডিও, অর্থ কিংবা শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। জারার মতো শিশুরা পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করার হুমকি থেকে ভয় পেয়ে নীরব থাকেন।
"বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা, অনলাইন গেমে আলাপ, উপহার বা অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কিংবা প্রেমের সম্পর্কের প্রস্তাবের মাধ্যমে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতে পারে নিপীড়কেরা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।"
ইউনিসেফের হিসাবে, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানে প্রযুক্তিনির্ভর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া অর্ধেকের বেশি শিশু কাউকে বিষয়টি জানায়নি। সামাজিক লজ্জা, পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপের আশঙ্কা তাদের নীরব থাকার অন্যতম কারণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তান (প্রধানত পাঞ্জাব প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জারা শাহর (ছদ্মনাম), ড্যানিয়েল কারডেফেল্ট, মেহেক নাঈম, সালমান আফ্রিদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ লাখ (শিশু), ১২-১৭ বছর (বয়স), ৮৫% (পরিচিত নিপীড়ক), ৪৪% (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা), ৭৪% (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!