📌 ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। এই দিবসটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানীর ওফাতের স্মরণে পালিত হয়। মুসলমানদের কাছে তার অবদান অপরিসীম এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে
২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সারা দেশে ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। এই দিবসটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীর ও ধর্মনেতা হজরত আবদুল কাদের জিলানীর (রহ.) ওফাতের স্মরণে পালিত হয়। মুসলমানদের কাছে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ শব্দটি বিশেষ অর্থ বহন করে — রবিউস সানি মাসের ১১তম ফাতেহা শরিফকে বোঝায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো হজরত আবদুল কাদের জিলানীর (রহ.) ওফাতের স্মরণে পালিত দিবস, যা রবিউস সানি মাসের ১১তম ফাতেহা শরিফের সাথে যুক্ত
- 📌 হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দেন
- 📌 তিনি পবিত্র কুরআন ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে ইসলামের পথে মানুষকে নেতৃত্ব দেন
- 📌 ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাদরাসা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল
- 📌 উলামায়ে কেরামের মতে, এই দিবসটি পালনের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান বা অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না, তবে দোয়া ও জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম শব্দের অর্থ ‘এগারো ফাতেহা’। এই দিবসটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানীর (রহ.) ওফাতের স্মরণে পালিত হয়। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ পুরুষ এবং ইসলামের পথে মানুষকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তার অবদান অপরিসীম। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহ.) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।
হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় ছিল। পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল। এই সময়ে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দেন এবং তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে যান। তিনি মুসলমানদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি নির্ভর করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর। উলামায়ে কেরামের মতে, এই দিবসটি পালনের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান বা অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না। তবে দোয়া মোনাজাত ও তার জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে। এতে কোনো দোষ নেই।
"ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম শরিফ ইমামুল আউলিয়া পীরানে পীর গাউসুল আযম দস্তগীর হজরত মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে পালিত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সারা দেশ (প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাদরাসা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান), ইরানের জিলান নগরী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.), সৈয়দ আবু সালেহ, বিবি ফাতেমা, হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমি (রহ.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর, ১১ (ফাতেহা), ৪৭০ হিজরি, ৫০০ বছর, ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!