📌 নাসার 'নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি' নামের ১.৪৫ টন ওজনের মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান। দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে।
নাসার একটি বিশাল মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। ২২ বছর আগে মহাবিশ্বের শক্তিশালী বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশে পাঠানো এই মহাকাশযানটির নাম ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’। এর ওজন প্রায় ১.৪৫ টন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং বেশিরভাগ অংশ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে নাসা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১.৪৫ টন ওজনের নাসার মহাকাশযান ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে
- 📌 পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাবে, তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়তে পারে
- 📌 ধ্বংসাবশেষের কারণে মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান
- 📌 দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে
- 📌 পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে প্রবেশ করতে পারে
- 📌 নাসা ২০১৯ সালে হালনাগাদ করা নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি ১০ হাজারে একজনের কম হতে হবে
📰 বিস্তারিত
নাসার মহাকাশযান ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ ২২ বছর আগে মহাবিশ্বের শক্তিশালী বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। এই মহাকাশযানটির ওজন ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড বা প্রায় ১.৪৫ টন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে নাসা।
নাসার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। এই ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান। নাসার ধারণা, সুইফটের ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০.৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০.৬ ডিগ্রির মধ্যে পড়তে পারে। অর্থাৎ বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ১ হাজার ৪২০ মাইল বা ২ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় এর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই এলাকার মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি বিশাল সমুদ্র এলাকাও এর আওতায় পড়েছে।
অলাভজনক গবেষণা সংস্থা অ্যারোস্পেস করপোরেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে সময়ের হেরফের হতে পারে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর সর্বশেষ পূর্বাভাসে সময়টি বলা হয়েছে সকাল ৭টা ৪২ মিনিট।
নাসা আগে থেকেই জানত, সুইফট একসময় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে নেমে আসতে পারে। তবে সংস্থাটির আশা ছিল, গত জুলাইয়ে পাঠানো একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান মহাকাশযানটিকে ধরে আবার উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও টানের কারণে মহাকাশযানটি ক্রমেই নিচে নেমে আসে। একপর্যায়ে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কমে মাত্র ১৭১ মাইল বা ২৭৫ কিলোমিটার দাঁড়ায়। এরপর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়। নাসা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঐ পর্যায়ে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের বাড়তি চাপ সামাল দিতে পারছিল না। ফলে এটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপদ অবস্থায় চলে যায়।
"এ ধরনের পূর্বাভাসে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে পারে। অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মুখপাত্র পার্কার উইশিক বলেছেন, এখানে হতাহত বলতে গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকিকে বোঝানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, বিশাল সমুদ্র এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসা, পার্কার উইশিক (অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.৪৫ টন ওজন, ২২ বছর, ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড, ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের ঝুঁকি, ২০.৬ ডিগ্রি অক্ষাংশ, ১৭১ মাইল উচ্চতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!