📌 টিআরএনবির আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে সময়মতো নতুন সাবমেরিন কেব্ল স্থাপন না করা হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি মারাত্মক ব্যান্ডউইথ সংকটে পড়বে। গত ১৩ বছরে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬০ গুণ
টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সাবমেরিন কেব্ল স্থাপনের সিদ্ধান্তহীনতা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলতে পারে। সোমবার ঢাকার অদূরে আয়োজিত এক কর্মশালায় তাঁরা জানান, বর্তমান দুই সরকারি সাবমেরিন কেব্লের সক্ষমতা যথেষ্ট নয় এবং ভবিষ্যতে চাহিদা মেটাতে নতুন অবকাঠামো স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিআরএনবির আয়োজিত কর্মশালায় উঠে আসে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেব্ল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা
- 📌 গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৬০ গুণ
- 📌 বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিট, যা ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে
- 📌 বাংলাদেশের বর্তমান দুই সরকারি সাবমেরিন কেব্লের মোট সক্ষমতা মাত্র ৭ দশমিক ১ টেরাবিট
- 📌 নতুন প্রস্তাবিত বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল চালু হলে মোট সক্ষমতা প্রায় ৬৭ টেরাবিটে উন্নীত হবে
📰 বিস্তারিত
টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা সাবমেরিন কেব্ল স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ তাঁদের উপস্থাপনায় বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তাঁরা জানান, ২০১৩ সালে যেখানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ জিবিপিএস, সেখানে ২০২৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৬০ গুণ। ভবিষ্যতে এই চাহিদা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে চাহিদা দাঁড়াবে ১৯ দশমিক ১ টেরাবিট, ২০২৮ সালে প্রায় ২৭ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট, ২০৩৫ সালে ৩০৫ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে তা ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের মূল ভরসা দুটি সরকারি সাবমেরিন কেব্ল—সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫। এগুলোর মোট সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি (আইটিসি) থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারতের রয়েছে ১৯টি, মালয়েশিয়ার ২৩টি, থাইল্যান্ডের ১২টি এবং ফিলিপাইনের ১৯টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে সংযোগ। অথচ বাংলাদেশের রয়েছে মাত্র দুটি। কোনো একটি কেব্লে ত্রুটি দেখা দিলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
মাহমুদ শাহেদ বলেন, সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন কেব্ল সি-মি-উই-৬ চালু হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে না। তিনি জানান, সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালে ব্যান্ডউইথ ঘাটতি প্রায় ২০ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে।
"প্রাইভেট সাবমেরিন কেব্ল স্থাপন করা হলে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হবে। ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ কমে যাবে এবং কোয়ালিটি অব সার্ভিস ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।"
কর্মশালায় টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুনায়েদ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। তাঁরা জানান, নতুন সাবমেরিন কেব্ল স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মশিউর রহমান, মাহমুদ শাহেদ, মাসুদুজ্জামান রবিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিট (বর্তমান চাহিদা), ৪৩২ টেরাবিট (২০৩৬ সালের পূর্বাভাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!