📌 ২০০৪ সালে ইতালির নেপলসের একটি গির্জা থেকে চুরি হওয়া ১৭ শতকের সেন্ট অ্যাগনেসের চিত্রকর্মের সন্ধান পেল এআই। পুলিশের এআই ব্যবস্থা 'সোয়াডস' ছবির রঙ ও নকশা বিশ্লেষণ করে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের তথ্যভান্ডারে মিল খুঁজে পায়। ২০২৪ সালে উদ্ধারকৃত ছবিতে মূল চিত্রের পরিবর্তিত রূপ ছিল, কিন্তু এআই এর বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে দিলো। ইতালির পুলিশের তথ্যভান্ডারে এখন ১০ লাখের বেশি নিদর্শনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে
২০ বছর আগে চুরি হওয়া একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্মের সন্ধান পেয়েছে ইতালির পুলিশের এআই ব্যবস্থা। ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট নেপলসের একটি গির্জা থেকে চুরি হওয়া ১৭ শতকের সেন্ট অ্যাগনেসের চিত্রকর্মের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এআই-এর মাধ্যমে। এই চিত্রকর্মের মূল চেহারা ছিল না, কিন্তু এআই এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের পরিচয় ধরা পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট ইতালির নেপলসের একটি গির্জা থেকে চুরি হয় ১৭ শতকের সেন্ট অ্যাগনেসের চিত্রকর্ম।
- 📌 ২০ বছর পর ২০২৪ সালে এআই ব্যবস্থা 'সোয়াডস' এর মাধ্যমে চুরি যাওয়া এই চিত্রকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়।
- 📌 পুলিশের তথ্যভান্ডারে ১০ লাখের বেশি নিদর্শনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, কিন্তু এআই-এর সাহায্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
- 📌 ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চালু হওয়া 'সোয়াডস' এআই ব্যবস্থা ৩০০টি বড় চিত্রকর্ম ও ১ লাখ ৬৫ হাজার ছোট নিদর্শন উদ্ধার করেছে।
- 📌 এআই-এর বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু শব্দের মাধ্যমে নয়, রং, অবয়ব ও নকশার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম শনাক্ত করতে পারে।
📰 বিস্তারিত
২০০৪ সালের ১১ আগস্ট ইতালির নেপলসের একটি ছোট্ট গির্জা থেকে চুরি হয় ১৭ শতকের একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম। ছবিটিতে দেখা যায়, ফর্সা ত্বকের এক তরুণী হাতে একটি সাদা মেষশাবক ও খেজুরপাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এই তরুণী ছিলেন খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যে সাধ্বী সেন্ট অ্যাগনেস। চুরি হওয়ার পর কেটে গেল দুই দশক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির পারমায় এক প্রদর্শনীতে সন্ধান মেলে এই ছবির। তবে সেটি ছিল মূল চিত্রের পরিবর্তিত রূপ। মূল ছবিতে তরুণীর হাতে ছিল মেষশাবক ও খেজুরপাতা, কিন্তু পরিবর্তিত ছবিতে দেখা যাচ্ছিল অর্ধেক খোলা একটি পাণ্ডুলিপি। এছাড়াও মুছে ফেলা হয়েছিল মাথার চারপাশের জ্যোতির্বলয়।
পুলিশের বিশেষ এআই ব্যবস্থা 'সোয়াডস' (SWOADS) এই ছবির রং, নকশা ও বিন্যাস বিশ্লেষণ করে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের তথ্যভান্ডারে থাকা একটি ছবির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। এই এআই ব্যবস্থা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে এবং ইতালির পুলিশের শিল্পকর্ম উদ্ধারের কাজে নতুন গতি এনেছে। এআই-এর বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু শব্দের মাধ্যমে নয়, রংয়ের বিভিন্ন আভা, অবয়বের গঠন, নকশা ও বিন্যাসের মধ্যে মিল খুঁজে সম্ভাব্য একই শিল্পকর্ম শনাক্ত করতে পারে।
২০১৩ সালে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মবিষয়ক দলে যোগ দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোর রাপিকাভোলি। তিনি মনে করেন, এআই-এর সাহায্যে বিপুল পরিমাণ নথি ও ছবি বিশ্লেষণের কাজে যন্ত্রকে যুক্ত করা গেলে তদন্তকারীদের সময় বাঁচবে এবং এমন কিছু সূত্রও পাওয়া যাবে, যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। ইতালির পুলিশের তথ্যভান্ডারে এখন ১০ লাখের বেশি নিদর্শনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, কিন্তু এআই-এর সাহায্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
“এআই-এর সাহায্যে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের সন্ধান পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু এআই-এর মাধ্যমে আমরা এমন কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারছি, যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপলস, ইতালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোর রাপিকাভোলি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর, ১৭ শতক, ১০ লাখ, ৩০০টি, ১ লাখ ৬৫ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!