📌 থানচি থেকে রুমা সার্কিট ট্রেলে চার দিনের অভিযানে লেখক পাহাড়ি পথে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। তিনটি বুনো জলপ্রপাত, দুর্গম অরণ্য ও নতুন মানুষদের সাথে গড়ে ওঠা বন্ধন এই যাত্রার মূল কথা
পাহাড়ের গভীরে নিজের অস্তিত্বের সীমা খুঁজতে যাত্রা শুরু করে একজন মানুষ যখন, তখন প্রকৃতি তার সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা থেকে শুরু করে চকরিয়া, ফাইস্যাখালী, আলীকদমের পথে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি সড়কই ছিল সেই প্রথম সাক্ষী। থানচি-রুমা সার্কিট ট্রেলে চার দিনের অভিযান লেখকের জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল অনিশ্চয়তা, প্রতিটি বাঁকে অজানা বিপদ আর নিজের সাথে লড়াই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়ক পেরিয়ে লেখক পৌঁছেছেন থানচি থেকে রুমা ট্রেলের শুরুতে, যেখানে প্রতিটি কিলোমিটারই ছিল চ্যালেঞ্জের প্রতীক।
- 📌 তিনটি বুনো জলপ্রপাত — তারপে সাইতার, জাদিপাই ও ত্লাবং — এই যাত্রার অন্যতম আকর্ষণ, যা প্রকৃতির বিশালতার সাক্ষী।
- 📌 চৌদ্দজন ভ্রমণসঙ্গী থেকে গড়ে ওঠে একটি পরিবারের মতো বন্ধন, যেখানে ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো আর একসঙ্গে হাসতে হাসতেই তৈরি হয় আত্মীয়তা।
- 📌 ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে লেখক পৌঁছেছেন ছিলা সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে, যেখানে পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও।
- 📌 বৃষ্টি ও জোঁকের উপদ্রব এই দুর্গম পথে যাত্রীদের জন্য দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রত্যেককে সতর্ক ও সজাগ রাখে।
📰 বিস্তারিত
থানচি-রুমা ট্রেলের অভিযান শুরু হয় ঢাকা থেকে বাসে চকরিয়া যাওয়ার মাধ্যমে। সেখান থেকে ফাইস্যাখালী হয়ে আলীকদমের পানবাজারে পৌঁছানোর পথে লেখক দেখেছেন আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, সবুজ উপত্যকা এবং মেঘের ছায়ায় ঢাকা দূরের চূড়া। আলীকদমে দামতুয়া ইন হোটেলে সতেজ হয়ে সকালের নাশতা শেষে আবার রওনা দেন থানচির উদ্দেশে। সামনে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়ক অপেক্ষা করছিল, যার শুরুতেই শুরু হয় খাড়া চড়াই আর আঁকাবাঁকা পথ। জিসানের মোটরসাইকেল পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠছিল কষ্ট করে, দুপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়, দূরে জনমানবহীন সবুজের বিস্তার।
প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে লেখক পৌঁছেছেন ছিলা সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে, যেখানে পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও। এই পথে লেখকের সঙ্গে ছিল চৌদ্দজন ভ্রমণসঙ্গী, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নতুন। কিন্তু চার দিনের পথচলায় কখন যে অপরিচিত মানুষগুলো আপন হয়ে উঠলেন, টেরই পাননি লেখক। ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়া, খাবার এগিয়ে দেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো আর একসঙ্গে হাসতে হাসতেই তৈরি হয়েছিল পরিবারের মতো এক বন্ধন।
থানচিতে পৌঁছে লেখক মনে করেন, এবার সত্যিই অভিযানের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন। সামনে দুর্গম পাহাড়, গভীর অরণ্য, পাথুরে পথ আর দীর্ঘ চড়াই-উতরাই। এখানে দূরত্বের হিসাব কেবল কিলোমিটারে হয় না; কয়েক কিলোমিটার পথও কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে নেয়। থানচি থেকে চান্দের গাড়িতে রওনা দিলেন বাকলাই পাড়ার দিকে। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পৌঁছান বাকলাই পাড়া সেনাক্যাম্পের কাছাকাছি, যেখানে প্রবেশের বিধিনিষেধ থাকায় নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি মাথায় রেখে এগোতে হলো।
বাকলাই পাড়ায় পৌঁছানোর পর লেখক দেখেছেন পাহাড়ের সতেজ পেঁপে খেয়ে প্রাণ জুড়ানো হলেও বিশ্রামের অবকাশ বেশি ছিল না। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছিল, গন্তব্য ছিল থাইক্ষ্যং পাড়া। ফেরার পথে দেখা হবে রোমাঞ্চকর বাকলাই জলপ্রপাতের সঙ্গে। বৃষ্টি নামলে কিংবা অন্ধকার ঘনিয়ে এলে পথ হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। যাত্রা শুরুর আগেই নেমে এল ঝুম বৃষ্টি, যা দুর্গম এলাকায় চার দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ বহন করতে গিয়ে আরো কষ্টকর করে তুলেছে।
"প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে গল্প বলে চলেছে। ঝিরির ওপর কাঠের সাঁকো, চারপাশে নাম না জানা পোকার ডাক আর বৃষ্টিভেজা পাতার গন্ধ—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে গল্প বলে চলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থানচি, রুমা সার্কিট ট্রেল, চকরিয়া, ফাইস্যাখালী, আলীকদম, বাকলাই পাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক (অনন্য ভ্রমণকারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ কিলোমিটার পাহাড়ি সড়ক, ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে চেকপোস্টে পৌঁছানো, চৌদ্দজন ভ্রমণসঙ্গী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!