📌 দিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের দুটি বিখ্যাত গোল — ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ — ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তার জন্মদিনে এই দুটি গোলের স্মৃতিচারণে ফুটবলপ্রেমীরা আবারও মুগ্ধ হয়েছেন
ফুটবলের ইতিহাসে দুটি গোল রয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলোচিত হয়ে আসছে। সেই গোল দুটি দিয়েগো ম্যারাডোনার — ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে করা এই দুটি গোল ফুটবলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে দিয়েছে। ৩০ অক্টোবর, দিয়েগো ম্যারাডোনার জন্মদিন। আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণকারী এই কিংবদন্তি ফুটবলার বেঁচে থাকলে আজ ৬৬ বছর পূর্তি উদযাপন করতেন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি পৃথিবী ছেড়ে গেলেও তার ফুটবলীয় জাদু এখনও বিশ্ববাসীর মনে জীবন্ত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **‘হ্যান্ড অব গড’ গোল**: ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা বাঁ হাতে গোল করলে রেফারি আলি বিন নাসের গোল অনুমোদন করেন। গোলটি ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়।
- 📌 **‘শতাব্দীর সেরা গোল’**: মাত্র ৫৫ মিনিটে ম্যারাডোনা ৬০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে পরাস্ত করে গোল করেন। ফিফা এই গোলটিকে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ঘোষণা করে।
- 📌 **ম্যারাডোনার অবদান**: ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ১৪টি গোলের মধ্যে ১০টিতে সরাসরি ম্যারাডোনার ভূমিকা ছিল। তিনি ৫টি গোল করেন এবং ৫টি গোলে সহায়তা করেন।
- 📌 **ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রভাব**: ম্যাচটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষতের উপর চাপে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যারাডোনার গোলগুলি সেই উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
📰 বিস্তারিত
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের একটি মাইলফলক। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা দুটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে জয়লাভে সাহায্য করেন। প্রথম গোলটি ছিল ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ম্যারাডোনা পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের দখল নিতে লাফ দেন। তবে তিনি বলটি তার বাঁ হাতে জালে পাঠান। রেফারি আলি বিন নাসের গোলটি বৈধ ঘোষণা করলে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ম্যারাডোনা পরে বলেছিলেন, বলটি তার মাথার সামান্য অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের স্পর্শে জালে গিয়েছিল।
মাত্র চার মিনিট পর, ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ম্যারাডোনা নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান। তিনি একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। গোলরক্ষক শিলটনকেও পরাস্ত করে তিনি বল পাঠিয়ে দেন জালে। এই গোলটি ছিল ৬০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে করা এবং ফিফা এই গোলটিকে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
ম্যারাডোনার ফুটবল জীবন শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার দরিদ্র পরিবারে। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দল লস সেবোলিতাসে যোগ দেন। তার অসাধারণ প্রতিভা সবার নজর কাড়ে এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন। বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা ও নাপোলির হয়ে খেলেছেন তিনি। বিশেষ করে নাপোলিতে তার সময়ে ক্লাবটির ইতিহাস বদলে যায়। পরে ১৯৯৭ সালে তিনি পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন।
"বলটি তার মাথার সামান্য অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের স্পর্শে জালে গিয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেক্সিকো সিটি, অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিয়েগো ম্যারাডোনা, পিটার শিলটন, আলি বিন নাসের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৬ বছর (ম্যারাডোনার বয়স), ৫৫ মিনিট (দ্বিতীয় গোলের সময়), ৬০ মিটার (গোলের দূরত্ব), ১৪টি গোল (আর্জেন্টিনার গোলের মধ্যে ম্যারাডোনার সরাসরি অবদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!