📌 আফগানিস্তানের ২৩ বছর বয়সী ফারিবা হাশিমি এশিয়ান গেমসে নারীদের টাইম ট্রায়ালে সপ্তম হন। তিনি নিজের দেশে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের অভাবের কথা তুলে ধরেন এবং স্বপ্ন পূরণে দেশ ছেড়ে ইতালিতে বসবাস করছেন
আফগানিস্তানের ২৩ বছর বয়সী ফারিবা হাশিমি এশিয়ান গেমসে নারীদের ব্যক্তিগত টাইম ট্রায়ালে সপ্তম স্থান অধিকার করার পিছনে রয়েছে একটি জীবনযুদ্ধের গল্প। পুরুষের পোশাক পরিধান করে সাইক্লিং অনুশীলন করার সময় তিনি পাথর ও বোতল ছুড়ার শিকার হন। শেষ পর্যন্ত নিজের দেশ ছেড়ে ইতালিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আফগান নারী সাইক্লিস্ট ফারিবা হাশিমি এশিয়ান গেমসে সপ্তম হন, কিন্তু তার পিছনে রয়েছে দেশে নিরাপত্তাহীনতা ও নির্যাতনের কাহিনি
- 📌 ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তান ছেড়ে ইতালিতে বসবাস করছেন হাশিমি
- 📌 ইউনেস্কো জানায়, আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত
- 📌 হাশিমি বলেন, ‘আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং লড়াই করছি’ — দেশের নারীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে নিজের গল্প তুলে ধরতে চান
- 📌 সাইক্লিংয়ে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সাইক্লিস্ট বোন ইউলদুজ হাশিমির কাছ থেকে
- 📌 আফগানিস্তানের ফারিয়াব প্রদেশে অনুশীলনে যাওয়ার সময় পুরুষের পোশাক পরতেন এবং মুখোশ ব্যবহার করতেন নিরাপত্তার জন্য
- 📌 নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন বজায় রেখেছেন হাশিমি, ভবিষ্যতে দেশে পরিবর্তন আনতে চান
📰 বিস্তারিত
ফারিবা হাশিমির জীবনযাত্রা ছিল আফগানিস্তানের নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের অভাবের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমি অনুশীলনে যাওয়ার সময় সবসময় পুরুষের পোশাক পরতাম। দুই-তিনটি আলাদা মুখোশ ব্যবহার করতাম যাতে কেউ আমাকে চিনতে না পারে বা আক্রমণ করতে না পারে। আমার মাথায় পাথর ছুড়া হয়েছে, মানুষ বোতলও ছুড়েছে। তারা আমাকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করত।’
২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর হাশিমি দেশ ছেড়ে ইতালিতে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের দেশে থাকতে পারি না, এটা খুবই দুঃখের। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি অনেক দিন। স্বপ্ন পূরণ করতে আমি দেশ ছেড়েছি এবং মানুষের ছোড়া পাথর এড়িয়ে পালিয়েছি।’
হাশিমি এশিয়ান গেমসে সপ্তম হওয়ার কথা নিজের পারফরম্যান্সের বিষয় হিসেবে দেখেন না। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমার পারফরম্যান্সের বিষয় নয়। এই পরিস্থিতিতেও একজন আফগান নারী কী করতে পারে, সেটা আমার দেশের মানুষকে দেখানোই আমার লক্ষ্য। আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং এখনো লড়াই করছি।’ তিনি আশা করেন, ‘কিছু একটা বদলাবে। তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েরা দেশের ভেতর থেকেই এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে পারবে, পৃথিবী দেখতে পারবে এবং পদক জিততে পারবে।’
হাশিমি নিজের দেশের মানুষকে খারাপ বলতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমার সময়টা খুব খারাপ কেটেছে। তবে আমি বলছি না, আমার দেশের মানুষ খারাপ। আমাদের দেশটা অসাধারণ। কিন্তু মানুষের মানসিকতা আলাদা।’
"আমার কাছে এটা শুধু আমার পারফরম্যান্সের বিষয় নয়। এই পরিস্থিতিতেও একজন আফগান নারী কী করতে পারে, সেটা আমার দেশের মানুষকে দেখানোই আমার লক্ষ্য। আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং এখনো লড়াই করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান (ফারিয়াব প্রদেশ), ইতালি, প্যারিস (ফরাসি রাজধানী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারিবা হাশিমি (২৩ বছর বয়সী আফগান নারী সাইক্লিস্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ বছর (হাশিমির বয়স), ২৪ লাখ (আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত কিশোরী), ১৫ বছর (সাইক্লিংয়ে আসার বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!