📌 সোশ্যাল মিডিয়ার বিউটি টিউটরিয়াল ও ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দৈনিক গড়ে ১৪টি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি করেছে। রুটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষণায় উঠে এসেছে, এসব প্রসাধনীতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে
আজকের ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কিশোর-কিশোরীদের জীবনযাপনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিউটি টিউটরিয়াল দেখা এবং জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহৃত প্রসাধনী অনুসরণ করা এখন তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই চকচকে জগতের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকির এক বিশাল সমুদ্র।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিউজার্সির প্রিন্সটন হাইস্কুলের ১৪৩ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরী মেয়েরা দৈনিক গড়ে ১৪টি প্রসাধনী ব্যবহার করে
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী কিশোর ছেলেরা ব্যবহৃত করে এর প্রায় অর্ধেক পরিমাণ প্রসাধনী
- 📌 যেসব শিক্ষার্থী বিউটি টিউটরিয়াল দেখে বা জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের অনুসরণ করে, তাদের প্রসাধনী ব্যবহারের হার অন্যদের তুলনায় যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ বেশি
- 📌 মাত্র ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রসাধন সামগ্রীর উপাদান তালিকা নিয়মিত পরীক্ষা করে, আর মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্ত করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে
📰 বিস্তারিত
আমেরিকার রুটগার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এমিলি ব্যারেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় নিউজার্সির প্রিন্সটন হাইস্কুলের ১৪৩ শিক্ষার্থীর উপর পরিচালিত পাইলট স্টাডিতে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক তথ্য। কিশোরী মেয়েরা দৈনিক গড়ে ১৪টি প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যবহারের সমান। অন্যদিকে কিশোর ছেলেরা ব্যবহৃত করে এর প্রায় অর্ধেক পরিমাণ। টুথপেস্ট, শ্যাম্পু বা সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে পারফিউম, সানস্ক্রিন এবং মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরিমাণ এই বয়সীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, যেসব শিক্ষার্থী বিউটি টিউটরিয়াল দেখে বা জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের অনুসরণ করে তাদের প্রসাধনী ব্যবহারের হার অন্যদের তুলনায় যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ বেশি। অধ্যাপক এমিলি ব্যারেট জানান, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলেও, অনিয়ন্ত্রিত প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কীভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসছে তা এই গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব প্রসাধনীতে থ্যালেটস, প্যারাবেনস এবং ফেনলসের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যেগুলো শরীরের হরমোনজনিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। বয়ঃসন্ধিকাল মানবদেহের হরমোন পরিবর্তনের একটি সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে নিয়মিত এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা প্রজনন স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক সময়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রসাধন সামগ্রীর উপাদান তালিকা নিয়মিত পরীক্ষা করে। আর ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্ত করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। 'ন্যাচারাল', 'অরগানিক' বা 'ইকো-ফ্রেন্ডলি'র মতো বিজ্ঞাপনী শব্দের বিভ্রান্তিকর ব্যবহারের কারণে অনেকেই সহজেই প্রতারিত হচ্ছে।
"তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলেও, অনিয়ন্ত্রিত প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কীভাবে রাসায়নিকের ঝুঁকিতে পড়ছে, তা এই গবেষণায় স্পষ্ট।"
গবেষক দলটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে অঞ্চলভিত্তিক কিশোর-কিশোরীদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে রাসায়নিকের উপস্থিতি পরিমাপ করার পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পণ্য কেনার আগে উপাদান তালিকা পরীক্ষা করা এবং অভিভাবক ও তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউজার্সি, আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমিলি ব্যারেট (অধ্যাপক, রুটগার্স ইউনিভার্সিটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৩ (শিক্ষার্থী), ১৪ (টি প্রসাধনী), ৪০ (শতাংশ), ৩০ (শতাংশ), ১৯ (শতাংশ), ৫ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!