📌 সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চারটি পাহাড়ি ছড়া নষ্ট হয়ে গেছে এবং বাকি তিনটিতে পানি নেই। পুকুরগুলো বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে, যা আগামী শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীদের পানির সংকট সৃষ্টি করবে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জলাধার পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাতটি পাহাড়ি ছড়ার মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং বাকি তিনটিতে পানি নেই। বনের পুকুরগুলোও বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে, যা আগামী শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীদের পানির সংকট সৃষ্টি করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পরিবেশবিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার প্রতি সতর্কতা জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চারটি পাহাড়ি ছড়া সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, বাকি তিনটিতে পানি নেই
- 📌 বনের তিনটি পুকুরের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ভরাট, বাকি একটি পুকুরের গভীরতা কমে গেছে
- 📌 সাতছড়ি উদ্যানে ২০০টির বেশি গাছের প্রজাতি এবং ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু বাস করে
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তারা জলাধার পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন
- 📌 পানির সংকটে প্রাণীরা লোকালয়ে আসলে মানুষ-প্রাণী সংঘাত বাড়তে পারে
📰 বিস্তারিত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ২৪৩ হেক্টর বা প্রায় ৬০০ একর জুড়ে মিশ্র চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনাঞ্চল রয়েছে। এই উদ্যানে ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বনের মধ্যে একসময় ছোট-বড় তিনটি পুকুর ছিল, যেখানে বন্য প্রাণীরা পানির তৃষ্ণা মেটাত। তবে বর্তমানে দুটি পুকুর সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে এবং বাকি একটি পুকুরের তলদেশও ভরাট হয়ে গেছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতছড়িতে ২০০টির বেশি গাছের প্রজাতি এবং প্রায় ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তুর বাস। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর এবং দেড় শতাধিক প্রজাতির পাখি। উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণ, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণী এই বনে বাস করে। পাখির মধ্যে ধনেশ, কাঠঠোকরা, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগনসহ নানা প্রজাতি রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেছেন, বনের জলাধারগুলো শুধু প্রাণীদের তৃষ্ণা মেটায় না, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গের প্রজনন এবং খাদ্যের জোগানসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি বলেন, বন্য প্রাণী ও বনের স্বার্থে পুকুর পুনঃখননসহ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ সেপ্টেম্বর সাতছড়ি বনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে দেখা যায়, বন কার্যালয়ের উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ১০ শতক আয়তনের একটি পুকুর সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে আছে। উদ্যানের প্রবেশপথ থেকে পূর্ব-উত্তর দিকে ৩০০ মিটার দূরে প্রায় ১২ শতক আয়তনের আরেকটি পুকুরও ভরাট। ওয়াচ টাওয়ারের পশ্চিম দিকে বনের গহিনে ১৫ শতক আয়তনের আরেকটি পুকুরে পানি আছে, তবে গভীরতা একেবারে কমে গেছে।
"বনের জলাধারগুলো শুধু প্রাণীদের তৃষ্ণা মেটায় না, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গের প্রজনন এবং খাদ্যের জোগানসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে।"
সাতছড়ি টিপরাপল্লির প্রধান চিত্ত রঞ্জন বর্মা বলেছেন, সাতছড়ির নামকরণ হয়েছিল সাতটি ছড়া থেকে। এখন সেই সাতটি ছড়ার মধ্যে দু-তিনটির অস্তিত্ব থাকলেও পানি নেই বলেই চলে। বৃষ্টি হলে ছড়াগুলোতে এক-দুই ঘণ্টা পানি দৃশ্যমান থাকলেও পরে শুকিয়ে যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা, সিলেট বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফাজ্জল সোহেল (বাপা সহসভাপতি), চিত্ত রঞ্জন বর্মা (সাতছড়ি টিপরাপল্লির প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪৩ হেক্টর (উদ্যানের আয়তন), ৬০০ একর, ২০০+ গাছের প্রজাতি, ১৯৭ জীবজন্তু প্রজাতি, ১০ শতক (পুকুরের আয়তন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!