📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসন পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করানোর জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে — যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার প্রস্তাব দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেস ২৬২-১৫৯ ভোটে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, রুশ সেনারা কয়েক মাসের মধ্যে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল দখল করে নেবে এবং ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইউক্রেনকে ভয়াবহ শীতের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এই বৈঠকে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার পুতিনের প্রতি প্রশ্ন তুলেন, ‘এক বছর আগেও আপনি আমাদের ঠিক একই কথা বলেছিলেন। আরেক বছর পর যদি আবার এখানে ফিরে আসি এবং আপনি আবার একই কথা বলেন, তখন কী হবে? আমরা কি একটি বছর নষ্ট না করেই এগোতে পারি?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ক্রেমলিন বৈঠকে পুতিন দাবি**: রাশিয়া দনবাস অঞ্চল দখল করবে এবং ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে, ফলে ইউক্রেন শীতের মুখোমুখি হবে
- 📌 **ট্রাম্পের কৌশল**: যুদ্ধ বন্ধের জন্য পুতিনকে রাজি করানোর নতুন পদ্ধতি হিসেবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে
- 📌 **কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞা বিল**: মার্কিন কংগ্রেস ২৬২-১৫৯ ভোটে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিল পাস করেছে
- 📌 **ট্রাম্পের বিরোধী অবস্থান**: ট্রাম্প প্রশাসন পুতিনকে সমঝোতায় বাধ্য করার জন্য ‘লাঠি ও গাজর’ নীতি অনুসরণ করছে, তবে বর্তমানে গাজরের দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে
- 📌 **বিলের প্রভাব**: রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার লক্ষ্য
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতরা সেপ্টেম্বর মাসে ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পুতিন আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল দখল করবে এবং ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইউক্রেনকে ভয়াবহ শীতের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এই বৈঠকে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার পুতিনের প্রতি প্রশ্ন তুলেন, ‘এক বছর আগেও আপনি আমাদের ঠিক একই কথা বলেছিলেন। আরেক বছর পর যদি আবার এখানে ফিরে আসি এবং আপনি আবার একই কথা বলেন, তখন কী হবে? আমরা কি একটি বছর নষ্ট না করেই এগোতে পারি?’
এই আলোচনা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রচেষ্টার মূল সংকটকে তুলে ধরেছে। মার্কিন কংগ্রেস ২৬২-১৫৯ ভোটে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে। এই বিলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিলের পাশাপাশি পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাজি করানোর নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এই কৌশলের আওতায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এইভাবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার বিষয়ে সত্যিই কতটা আন্তরিক, তা দেখানো যাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থিত পদ্ধতির সঙ্গে ভিন্ন। ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় মিত্ররাও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, পুতিনকে সমঝোতায় বাধ্য করতে হলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াতে হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন পুতিনের আশপাশের রাশিয়ার কট্টরপন্থী ও আমেরিকাবিরোধী মহলকে বোঝানোর জন্য যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবসায়িক চুক্তি করার প্রস্তাব দিচ্ছে।
"এক বছর আগেও আপনি আমাদের ঠিক একই কথা বলেছিলেন। আরেক বছর পর যদি আবার এখানে ফিরে আসি এবং আপনি আবার একই কথা বলেন, তখন কী হবে? আমরা কি একটি বছর নষ্ট না করেই এগোতে পারি?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ক্রেমলিন (মস্কো), মার্কিন কংগ্রেস (ওয়াশিংটন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জ্যারেড কুশনার, মাইকেল ম্যাককল, ডারলেইন গ্রাহাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬২ (ভোট), ১৫৯ (ভোট), ১০০ (শতাংশ শুল্ক), ১৮ (মাসেরও বেশি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!