📌 অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা বিষণ্নতার নতুন ধরন ‘সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন’ আবিষ্কার করেছেন। ঘুমের ছন্দের বিচ্যুতি, রাতজাগা ও সকালে ক্লান্তি এই বিষণ্নতার মূল কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৩ শতাংশ মানুষের এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং তাদের বিষণ্নতা বেশি গুরুতর হয়
বিজ্ঞানীরা বিষণ্নতার একটি নতুন ধরনের সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দের বিচ্যুতির সাথে জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল ‘সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন’ বা শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষণ্নতার সম্ভাব্য নতুন ধারণা প্রস্তাব করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ছন্দের ছয়টি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনটি থাকলে বিষণ্নতার সম্ভাবনা বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা ‘সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন’ নামক বিষণ্নতার নতুন ধরন আবিষ্কার করেছেন, যা ঘুমের ছন্দের বিচ্যুতির সাথে সম্পর্কিত
- 📌 গবেষণায় অংশ নেওয়া ১১ হাজার মানুষের মধ্যে ২৩ শতাংশের মধ্যে ঘুমের ছন্দের তিনটি বা তার বেশি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে
- 📌 এই দলের মানুষের বিষণ্নতা কম বয়সে শুরু হয় এবং লক্ষণও বেশি গুরুতর
- 📌 প্রচলিত বিষণ্নতার ওষুধ এই দলের মানুষের ক্ষেত্রে কম কার্যকর বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা
- 📌 জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই দলের মানুষের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বেশি
📰 বিস্তারিত
বিষণ্নতার লক্ষণ হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে ঘুমের সমস্যা বিবেচনা করা হতো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা এখন একটি নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন। তাদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির ছন্দে গোলমালই বিষণ্নতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি’তে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘুমের ছয়টি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনটি বা তার বেশি থাকলে বিষণ্নতার সম্ভাবনা বেশি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে বিষণ্নতার লক্ষণ বাড়া বা কমা
- স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া
- রাত জেগে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা
- অতিরিক্ত ঘুমানো
- সকালে ঘুম থেকে উঠেও খুব ক্লান্ত লাগা
- কর্মদিবস ও ছুটির দিনে ঘুমানোর সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকা (‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’)
গবেষণায় অংশ নেওয়া ১১ হাজার মানুষের মধ্যে ২ হাজার ৬০৪ জনের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া গেছে, যা মোট অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ। এই দলের মানুষের বিষণ্নতা কম বয়সে শুরু হয়েছে এবং তাদের লক্ষণও বেশি গুরুতর। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দলের মানুষের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তাজনিত সমস্যা (এডিএইচডি), বাইপোলার ডিজঅর্ডার এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে গবেষণায় শুধু জিনগত ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে, তা না হলে রোগের সত্যিকারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না।
গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সম্ভাব্য ‘সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন’ দলের অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, প্রচলিত বিষণ্নতার ওষুধে তারা তুলনামূলক কম উপকার পেয়েছেন। বিশেষ করে এসএসআরআই ও এসএনআরআই শ্রেণির অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি অনুভব করেছেন। গবেষণার অন্যতম লেখক জ্যাকব ক্রাউস বলেছেন, বিষণ্নতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এর কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসায় সাড়াও ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীদের মধ্যে এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।
লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড কার্টিসের মতে, গবেষণায় চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যগুলো সম্ভবত এমন ব্যক্তিদের আলাদা করেছে যাঁদের বিষণ্নতা আগে থেকেই বেশি গুরুতর। সে কারণে তাঁদের ঘুমের সমস্যা বেশি হতে পারে। তবে গবেষণায় শরীরের জৈবিক ঘড়ির সমস্যা বিষণ্নতার একটি আলাদা ধরন হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
"বিষণ্নতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় সাড়াও ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীদের মধ্যে এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়), লন্ডন (ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাকব ক্রাউস (গবেষক), ডেভিড কার্টিস (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হাজার (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী), ২৩ শতাংশ (সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!