📌 যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে। ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাতিসঙ্ঘের তদন্তে ১৬০ জনেরও বেশি নিহতের দায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে দায়ী করা হয়
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছে। ইরানে মার্কিন বাহিনীর দুটি নির্বিচার হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাতিসঙ্ঘের একটি স্বাধীন তদন্ত দলের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়, যেখানে ১৬০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭ সেপ্টেম্বর** জেনেভায় শুরু হওয়া মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহার ঘোষণা দেয়।
- 📌 **২৮ ফেব্রুয়ারি** ইরানে মার্কিন বাহিনীর দুটি হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জাতিসঙ্ঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- 📌 **মিনাব শহরের** একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২০টি শিশুসহ ১৬০ জনেরও বেশি নিহত হন। বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ছিল।
- 📌 **লামার্দ শহরের** ক্রীড়া কমপ্লেক্সে টংস্টেন পেলেট-ভিত্তিক হামলায় ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর অভিযোগ করেছে, জাতিসঙ্ঘের সংস্থাটি ‘মার্কিনবিরোধী অবস্থান’ নিচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারগুলোর প্রতি নমনীয় আচরণ করছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হোয়াইট হাউস এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতিসঙ্ঘের একটি স্বাধীন তথ্যঅনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই। প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন বাহিনীর দুটি নির্বিচার হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, **মিনাব শহরের** ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২০টি শিশুসহ ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ছিল এবং কোনো সামরিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়টিতে শিশুদের গ্রাফিতি ও খেলার স্থান ছিল, যা সহজেই শনাক্তযোগ্য। হামলার আগে এটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না, তা যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে **লামার্দ শহরে**, যেখানে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় নিখুঁত নিশানাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই হামলায় **টংস্টেন পেলেট** ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারীদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুস্পষ্ট ঝুঁকি জেনেও যুক্তরাষ্ট্র হামলাটি চালিয়েছে, যা যুদ্ধের আইনের লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হোয়াইট হাউস এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, লামার্দে চালানো হামলায় লখিদ মার্টিনের তৈরি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম) ব্যবহার করা হয়েছিল। ধ্বংসাবশেষ ও টংস্টেন পেলেটের বিস্তার থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বেসামরিক জীবন ও যুদ্ধের আইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চরম অবহেলার এটি একটি বড় উদাহরণ।
"সংস্থাটি ‘মার্কিনবিরোধী অবস্থান’ নিচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারগুলোর প্রতি নমনীয় আচরণ করছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জেনেভা (মানবাধিকার পরিষদ অধিবেশন), মিনাব শহর (ইরান), লামার্দ শহর (ইরান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারীরা, ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬০ জন (মিনাব হামলায় নিহত), ২২ জন (লামার্দ হামলায় নিহত), ১২০টি শিশু, ৬৩তম অধিবেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!