📌 বাংলাদেশে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশছে। গবেষণা দেখায়, নতুন পাত্রে প্রতি কেজি ভাতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া যায়। ঢাকার শিশুদের শরীরে উদ্বেগজনক পরিমাণে সিসা পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে
বাংলাদেশে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশছে। গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, নতুন পাত্র থেকে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা মিশে যায়। এই বিষাক্ত ধাতু শিশুদের শরীরে উদ্বেগজনক পরিমাণে উপস্থিত থাকার কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে প্রতি কেজি ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা মিশে যায়
- 📌 পুরোনো পাত্রে প্রতি কেজিতে ২২৬ থেকে ৩৮০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে, নতুন পাত্রে ১২৬০ থেকে ১৮২০ মাইক্রোগ্রাম
- 📌 গবেষণায় ২৭টি পাত্র পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ২০টি নতুন এবং ৭টি পুরোনো
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করে, খাবারে সিসার কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই
- 📌 ঢাকার প্রায় শতভাগ শিশুর শরীরে উদ্বেগজনক পরিমাণে সিসা পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশছে, এমন একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্রে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ গড়ে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাত্র পরিষ্কার করার সময় শক্ত তারের জালি দিয়ে ঘষলে সিসা নির্গমনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
গবেষণায় ২৭টি পাত্র নিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ২০টি নতুন এবং ৭টি পুরোনো। নতুন পাত্রে সিসার পরিমাণ ছিল ১২৬০ থেকে ১৮২০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কেজি, যেখানে পুরোনো পাত্রে ২২৬ থেকে ৩৮০ মাইক্রোগ্রাম। গবেষকরা দেখেছেন, পরপর তিনবার রান্না করার পর ভাতে সিসার পরিমাণ কমে যায়, তবে খিচুড়িতে কমার হার কম।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজিতে। গবেষণার শিরোনাম ‘টক্সিক কুকওয়্যার: লিড এক্সপোজার ফ্রম অ্যালুমিনিয়াম পটস ইন বাংলাদেশ’।
"দেশে পাওয়া যায় এমন প্রায় সব ধরনের অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্রের ধরন বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন পাত্রে যেমন সিসা পাওয়া গেছে, তেমনি ক্ষয়ে যাওয়া পুরোনো পাত্রেও এর উপস্থিতি মিলেছে। গবেষণাটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, সিসাযুক্ত পাত্র থেকে রান্না করা খাবারে সিসা চলে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।"
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় শতভাগ শিশুর শরীরে উদ্বেগজনক মাত্রায় সিসার উপস্থিতি আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করে, খাবারে সিসার কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে প্রতি কেজিতে সিসার সর্বোচ্চ মাত্রা ১০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মাহবুবুর রহমান (আইসিডিডিআরবি গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম (ভাত), ৪২০ মাইক্রোগ্রাম (খিচুড়ি), ২৭টি পাত্র পরীক্ষা, ২০টি নতুন পাত্র, ৭টি পুরোনো পাত্র
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!