📌 সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ফেরিটিন ফেস' নামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, চেহারার কিছু পরিবর্তন থেকে আয়রনের ঘাটতি শনাক্ত করা যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু চেহারা দেখে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ফেরিটিন ফেস' নামে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, চেহারার কিছু পরিবর্তন যেমন ফ্যাকাশে ত্বক, চোখের নিচের কালো দাগ, ভঙ্গুর চুল ও ঠোঁট থেকে আয়রনের ঘাটতি বোঝা যায়। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, শুধু চেহারা দেখে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা নির্ণয় করা যায় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে 'ফেরিটিন ফেস' নামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে চেহারার পরিবর্তন থেকে আয়রনের ঘাটতি শনাক্ত করা যায়।
- 📌 চিকিৎসকরা বলছেন, 'ফেরিটিন ফেস' কোনো ডাক্তারি রোগনির্ণায়ক নয়, তবে শরীরে পরিবর্তন ঘটছে তা বোঝার একটি সূত্র হতে পারে।
- 📌 ফেরিটিন মাত্রা প্রতি লিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকলে আয়রনের ঘাটতি দেখা যায়, ৩০-এর নিচে থাকলে সাধারণত ঘাটতি বেশি।
- 📌 ৩২ বছর বয়সী লুসি এম-এর ফেরিটিন মাত্রা ছিল ১২ মাইক্রোগ্রাম, যখন তার রক্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়েছিল।
- 📌 চিকিৎসক ডঃ ড্রিউ প্রোভান বলেছেন, চেহারা দেখে আয়রনের ঘাটতি নির্ণয় করা 'অসম্ভব'।
📰 বিস্তারিত
টিকটকের এক তরুণী নিজের আগের ও বর্তমান ছবির তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, 'আপনার কি ফেরিটিন ফেস?' তিনি চোখের নিচের কালো দাগ, ফ্যাকাশে ত্বক এবং ভঙ্গুর চুলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তার শরীরে আয়রনের ঘাটতি বেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অসংখ্য ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ফেরিটিন মাত্রা কমে গেলে মুখে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। ব্যবহারকারীরা ফ্যাকাশে ত্বক, চোখের নিচে কালো দাগ, শুষ্ক ঠোঁট, চুল পড়া এবং দুর্বল নখের কথা উল্লেখ করছেন।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস-ভিত্তিক জিপি ডাক্তার আজিজা সেসায় বলেছেন, 'ফেরিটিন ফেস কোনো ডাক্তারি রোগনির্ণায়ক নয়।' তবে তিনি বলেছেন, এটি শরীরে পরিবর্তন ঘটছে তা বোঝার একটি সূত্র হতে পারে। ফ্যাকাশে ত্বক, চুল ঝরে যাওয়া বা ভঙ্গুর নখের মতো উপসর্গ আয়রনের ঘাটতির সাথে দেখা দিতে পারে, কিন্তু এগুলো অন্য কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে।
ফেরিটিন হলো শরীরে আয়রনের সঞ্চয়কারী প্রোটিন। যখন ফেরিটিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। ব্রিটিশ সোসাইটি অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির নির্দেশিকা অনুসারে, প্রতি লিটারে ফেরিটিন ১৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকলে আয়রনের ঘাটতি দেখা যায়। আর ৩০-এর নিচে থাকলে সাধারণত ঘাটতি বেশি।
৩২ বছর বয়সী লুসি এম বলেছেন, 'ফেরিটিন ফেস' কথাটি তার নিজের শরীর ও চেহারার পরিবর্তনগুলিকে বর্ণনা করে বলে মনে হয়েছে। ২০২১ সালে তার বুক ধড়ফড় করা, ক্লান্তি এবং চুল পড়া শুরু হয়। সেসময় তার রক্ত পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও, পরে তার জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে। কিন্তু পরবর্তী এক পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই সময় তার ফেরিটিনের মাত্রা ছিল প্রতি লিটারে মাত্র ১২ মাইক্রোগ্রাম। তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, ওই সময় তাকে দেখতে 'ফ্যাকাশে' লাগত এবং তার চুল নিষ্প্রভ ও ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছিল।
"ফেরিটিন ফেস কোনো ডাক্তারি রোগনির্ণায়ক নয়, তবে এটি একটি সূত্র হতে পারে, যা আমাদের বলে দেয় যে শরীরে কিছু একটা পরিবর্তন ঘটছে।"
কনসালটেন্ট হেমাটোলজিস্ট ডঃ ড্রিউ প্রোভান বলেছেন, আয়রনের ঘাটতি থাকলেও রক্তশূন্যতা না থাকলে শরীরে সঞ্চিত আয়রন কমে যেতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, চেহারা দেখে আয়রনের ঘাটতি নির্ণয় করা 'অসম্ভব'। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ফ্যাকাশে ত্বক বা চোখের নিচের কালো দাগের মতো লক্ষণগুলো একেক মানুষের জন্য একেক রকম হতে পারে এবং এগুলো অন্য কারণেও হতে পারে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকের রঙের পরিবর্তন ততটা স্পষ্ট নাও হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোশ্যাল মিডিয়া (টিকটক, ইনস্টাগ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাক্তার আজিজা সেসায়, ডঃ ড্রিউ প্রোভান, লুসি এম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ মিনিট (পড়ার সময়), ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ৩০ মাইক্রোগ্রাম, ৩২ বছর, ১২ মাইক্রোগ্রাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!