📌 আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা ছিল একটি আপেল মাটিতে পড়ার ঘটনা। মহাবিশ্বের সব বস্তুর পারস্পরিক আকর্ষণের এই সূত্রের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ‘বিগ জি’ নামের মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মান নির্ধারণে
১৬৬৫ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারির প্রকোপে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তরুণ আইজ্যাক নিউটন নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানেই একদিন বাগানে বসে থাকার সময় তাঁর নজরে আসে একটি আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। এই সাধারণ ঘটনাটিই তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। নিউটন ভাবতে শুরু করেন, আপেলটি কেন মাটিতে পড়ল? তা কি উপরের দিকে উঠতে পারত না? তাঁর মাথায় তখন মহাকর্ষের ধারণা জন্ম নেয়। নিউটন উপলব্ধি করেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। অর্থাৎ, পৃথিবী যেমন আপেলকে টানে, তেমনি আপেলও পৃথিবীকে সমানভাবে টানে। চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যেও এমনই টান রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা ছিল একটি আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়ার ঘটনা
- 📌 নিউটন বলেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে
- 📌 মহাকর্ষ বল নির্ভর করে বস্তুদ্বয়ের ভর এবং তাদের মধ্যকার দূরত্বের ওপর
- 📌 নিউটনের সমীকরণ F = G.(m1.m2)/r²-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘বিগ জি’ নামের মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
- 📌 নিউটন নিজেই ‘বিগ জি’র মান নির্ণয় করতে পারেননি
- 📌 বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে প্রমাণ করেন, ‘বিগ জি’র মান মহাবিশ্বের ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
নিউটনের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর নিজের গ্রামের বাড়ির বাগানে। ১৬৬৫ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দেয়। তখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিউটন নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। একদিন বাগানে বসে থাকার সময় তাঁর চোখে পড়ে একটি আপেল গাছ থেকে আপেলটি মাটিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। এই সাধারণ ঘটনাটিই তাঁকে মহাকর্ষের ধারণায় উদ্বুদ্ধ করে। নিউটন ভাবতে শুরু করেন, আপেলটি কেন মাটিতে পড়ল? তা কি উপরের দিকে উঠতে পারত না? তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, মহাবিশ্বের সব বস্তুকণা কি একে অপরকে টানে?
নিউটন তাঁর গবেষণায় উপলব্ধি করেন যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। তিনি বলেন, ভর থাকলেই বস্তুগুলো একে অপরকে টানবে। বস্তুর ভর যত বেশি হবে, তার টান তত বেশি হবে। আবার বস্তুদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্ব যত বেশি হবে, তাদের মধ্যকার টান তত কমবে। নিউটন তাঁর এই ধারণাকে একটি গাণিতিক সমীকরণে প্রকাশ করেন: F = G.(m1.m2)/r²। এখানে F হলো মহাকর্ষ বল, m1 ও m2 হলো দুই বস্তুর ভর, r হলো তাদের মধ্যকার দূরত্ব, এবং G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বা ‘বিগ জি’।
তবে নিউটন নিজেই ‘বিগ জি’র মান নির্ণয় করতে পারেননি। তিনি শুধু অনুমান করেছিলেন যে পৃথিবীর ঘনত্ব পানির চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি হতে পারে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন যে, ‘বিগ জি’র মান মহাবিশ্বের ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই মান একটু বেশি হতো, তাহলে মহাবিশ্বের সবকিছু একে অপরের সঙ্গে প্রবল বেগে ধাক্কা খেয়ে ধ্বংস হয়ে যেত। আর যদি একটু কম হতো, তাহলে কোনো গ্রহ-নক্ষত্রই তৈরি হতো না।
"মহাবিশ্বের ছোট-বড় সব বস্তুরই মহাকর্ষীয় আকর্ষণ রয়েছে। ভর থাকলেই সে অন্য ভরের বস্তুকে কাছে টানবে। বস্তুর ভর যত বেশি হবে, তার টান তত জোরালো হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইজ্যাক নিউটন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ থেকে ৬ গুণ (পানির ঘনত্বের তুলনায় পৃথিবীর ঘনত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!