📌 অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান উসমান খাজা ২২ বছর বয়সে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হন। ১০ মিটারও হাঁটতে পারতেন না এমন অবস্থায় তিনি ৮৮ টেস্টে ৬২২৯ রান ও ১৬ সেঞ্চুরি করেন। জীবনের গোপন অধ্যায় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘ওষুধ ছাড়া ক্রিকেট খেলতেই পারতাম না’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান উসমান খাজা ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৬ সেঞ্চুরি ও ৬২২৯ টেস্ট রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে ছিল ১৭ বছর ধরে লড়াই করা একটি অদৃশ্য যুদ্ধ। ৩৯ বছর বয়সী খাজা জানিয়েছেন, মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর শরীরে ধরা পড়ে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। এই রোগের কারণে তাঁর বাঁ হাঁটুতে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ দেখা দিয়েছিল। এমনকি ১০ মিটারও হাঁটতে পারতেন না এমন অবস্থায় তিনি ক্রিকেটের মাঠে ফিরে আসেন এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ৮৮ টেস্টে ৬২২৯ রান করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত** হয়ে ২২ বছর বয়সে উসমান খাজা ১০ মিটারও হাঁটতে পারতেন না, কিন্তু তিনি **৮৮ টেস্টে ৬২২৯ রান** ও **১৬ সেঞ্চুরি** করেন
- 📌 **১৭ বছর ধরে** নিজের অসুস্থতার কথা **সতীর্থদের কাউকে বলেননি** — এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নার ও মাইকেল হাসিরও জানতেন না
- 📌 **চিকিৎসা ছাড়া ক্রিকেট খেলতেই পারতেন না** — নিজের কথায়, ‘ওষুধ না থাকলে আমি আর কোনো দিন ক্রিকেট খেলতে পারতাম না’
- 📌 **অবসর নেওয়ার পর** তিনি **আত্মজীবনী ‘সবর’** লিখবেন, যেখানে নিজের জীবনের গোপন গল্প তুলে ধরবেন
- 📌 **রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে** সাফল্য পেয়েছেন বলে তিনি অন্যদেরও **সাহস দিতে চান**
📰 বিস্তারিত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ১৬ সেঞ্চুরি ও ৬২২৯ রান করার পিছনে ছিল একটি অদৃশ্য যুদ্ধ। উসমান খাজা ২০০৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হন। এই রোগের কারণে তাঁর বাঁ হাঁটুতে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ দেখা দেয়। এমনকি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। খাজা বলেছেন, ‘আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, মারা যাব।’ সেই সময়ের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, মারা যাব। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার আগেই যেন শেষের বাঁশি শুনতে পাচ্ছিলেন।’
রোগের কথা চিকিৎসক ও ক্রিকেট প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানতেন। কিন্তু সতীর্থদের কাউকে বলেননি। তিনি ভয় করতেন, অসুস্থতার কথা জানাজানি হলে তাঁকে অন্য চোখে দেখা হবে। এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নার ও মাইকেল হাসিরও জানতেন না খাজার অসুস্থতার কথা। খাজার লড়াইটা ছিল শুধু মনের জোরে জেতা সম্ভব নয়। তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে হতো এবং ইনজেকশন নিতে হতো। চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। রোগ ধরা পড়ার প্রায় ছয় মাস পর আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পেরেছিলেন তিনি।
খাজা বলেছেন, ‘ওই ওষুধ না থাকলে আমি আর কোনো দিন ক্রিকেট খেলতে পারতাম না। এমনকি স্বাভাবিক জীবনেও ফিরতে পারতাম না।’ তারপরের গল্পটা ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে পূরণ হলো বহু দিনের স্বপ্ন। তবে জীবন তো আর রূপকথা নয় যে একবার জাতীয় দলে ঢুকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। খাজাকে বারবার দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। আবার ফিরেছেন। ব্যর্থতা এসেছে, সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়েননি।
খাজার প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০২১-২২ মৌসুমের অ্যাশেজ। সিডনি টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। যেন ক্রিকেটকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর গল্প এখনো শেষ হয়নি। সেই সিডনিতেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন খাজা।
"রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়েও যদি কেউ পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারে, তাহলে আমার মনে হয়, আরও অনেক মানুষও অনেক কিছু অর্জন করতে পারবে। কথাটা শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়। জীবনের জন্যও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উসমান খাজা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৮ টেস্ট, ৬২২৯ রান, ১৬ সেঞ্চুরি, ২২ বছর বয়স, ১৭ বছর ধরে লড়াই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!