📌 মধুপুরের গায়রা গ্রামে দুটি বিরল পারুল গাছ আবিষ্কার করেছেন প্রকৃতিপ্রেমী তাপস বর্ধন। গাছ দুটিকে চিনতে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া তাদের অনুসন্ধান শেষে সন্ধান মিলে। পারুল গাছের বীজ ও ফুলের মেডিসিনাল ব্যবহার এবং বাংলাদেশে এর বিরলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মধুপুরের গায়রা গ্রামে দুটি বিরল পারুল গাছের সন্ধান পেয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী তাপস বর্ধন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া তাদের অনুসন্ধান শেষে সন্ধান মিলে। এই বিরল গাছের ফুল ও বীজের মেডিসিনাল ব্যবহার এবং বাংলাদেশে এর বিরল অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রকৃতিপ্রেমী তাপস বর্ধন ও তার দাদা মধুপুরের গায়রা গ্রামে দুটি পারুল গাছের সন্ধান পেয়েছেন
- 📌 গাছ দুটিকে চিনতে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষে সন্ধান মিলে, প্রথম গাছ টেলকি বাজারের পাশে, দ্বিতীয়টি গায়রা বাজারের কাছে
- 📌 পারুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Stereospermum cheloniodes এবং ইংরেজি নাম Fragrant Padri-tree বা Yellow Snakeroot
- 📌 গাছ দুটিকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর বীজের মেডিসিনাল ব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে বন থেকে বীজ আহরন করা হয়
- 📌 পারুল ফুলের নাম অতীত ও বর্তমান বাংলা সাহিত্যে প্রচুর ব্যবহার হয়েছে
📰 বিস্তারিত
তাপস বর্ধন ও তার দাদা গতকাল সকাল ১১টায় পঁচিশ মাইল বাজারে একত্রিত হয়ে পারুল গাছের অনুসন্ধানে রওনা দেন। তারা ঠিক করে নেন যে, দুজনে একসাথে বনে প্রবেশ করবেন। গায়রা গ্রামের রাস্তায় নামার আগে দাদা তাপসকে বলেন, “এখন তোমার পরীক্ষা হবে। পারুল ফুল দেখতে গত বছরে ঠিক একই জায়গায় আসছিলাম, তখন ফুল ছিল না, আর গাছ দেখেও ঠিকঠাক চিনতে পারিনি। এবার হবে পরীক্ষা।”
দাদার নির্দেশে তারা গাছের ফুলের মাধ্যমে পারুল চিনতে চেষ্টা করেন। কিন্তু গাছের মাথায় কাঞ্চন লতা ছেয়ে আছে এবং গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। সকালে যে ফুল পড়ে ছিল, সেটাও আর নেই। তাপস আশেপাশে সকল গাছের উপরে খেয়াল রাখেন। ময়মনসিংহ-টাংগাইল মহাসড়কের পাশে বিশাল একটি গাছ দেখে তিনি চেনেন যে, এটি পারুল গাছ। হঠাৎ উপর থেকে একটা ফুল পড়ে রাস্তার মাঝখানে। তাপস তা কুড়িয়ে আনন্দে দাদাকে বলেন, “দাদা, এইতো পারুল!” দাদা হুমমম করে মাথা নাড়লেন। এরপর আরও কিছু ফুল পড়ে গেলে তাপস তা কুড়িয়ে নিয়ে আসেন।
গায়রা বাজারে তারা আরেকটি পারুল গাছের সন্ধান পান। এই গাছটি বেশ বড় আকারের এবং তেমন ফুল নেই, তবে পাতা চলে আসছে। স্থানীয় আদিবাসী রফিক সাংমা (গারো) বলেন, এই গাছের কাঠ ও ডাল পোড়ানির কাজে ব্যবহার করা হয় না, কারণ পোড়ালে পরিবারের অমঙ্গল হয়। গাছের ডাল ঝড়ে ভেঙে পড়েছে এবং দীর্ঘদিন এভাবেই পড়ে আছে।
বৈজ্ঞানিকভাবে পারুল গাছের নাম Stereospermum cheloniodes এবং এটি বিগ্নোনিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত। পারুল গাছের ফুল উভলিঙ্গী, সরু বোঁটাযুক্ত বাঁকানো ফানেলাকৃতি, পাপড়ি গাঢ় বেগুনি থেকে গোলাপি এবং সুগন্ধযুক্ত। এই গাছ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মায়ানমার, কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কায় দেখা যায়, তবে ব্যাপকভাবে নয়।
"পারুল ফুলের নাম অতীত ও বর্তমান বাংলা সাহিত্যে প্রচুর ব্যবহার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধুপুরের গায়রা গ্রাম, ময়মনসিংহ-টাংগাইল মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৃতিপ্রেমী তাপস বর্ধন, তার দাদা, স্থানীয় আদিবাসী রফিক সাংমা (গারো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (টায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!