📌 বাংলাদেশে জ্বর-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ১৩% রোগী ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির ২০ বছরের গবেষণা প্রকাশ করেছে এ তথ্য। গবেষকরা বলেছেন, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম এবং জুন-জুলাই মাসে সর্বাধিক আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা জনস্বাস্থ্যের একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির ২০ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জ্বর-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে ১৩ শতাংশের ইনফ্লুয়েঞ্জা। এছাড়াও, এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৩% শ্বাসতন্ত্রের রোগী ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত**: ২০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ জন রোগীর মধ্যে ২২ হাজার ২৮৪ জনের ইনফ্লুয়েঞ্জা পাওয়া গেছে
- 📌 **জুন-জুলাই ইনফ্লুয়েঞ্জার সর্বোচ্চ মৌসুম**: সাধারণ ধারণা ভুল, ইনফ্লুয়েঞ্জা এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখা যায়, বিশেষত জুন-জুলাই মাসে সর্বাধিক
- 📌 **৬০ বছরের বেশি বয়সী ও শিশুদের ঝুঁকি বেশি**: ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি হয়, কিন্তু মৃত্যু বেশি হয় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের
- 📌 **বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিডিসির সহায়তায় গবেষণা**: আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবি ১৫টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২০ বছর ধরে ইনফ্লুয়েঞ্জা পর্যবেক্ষণ করছে
- 📌 **টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি গুরুত্বপূর্ণ**: আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে টিকা, মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার গুরুত্ব
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সহায়তায় বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) গত মঙ্গলবার সেমিনারে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইইডিসিআরের সহযোগী অধ্যাপক মোনালিসা ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ২০১১-১২ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ১৬ হাজার ৮০৪ জনের মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে ১৩৮টি দেশে ১৫৭টি ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টার রয়েছে, যার মধ্যে আইইডিসিআর একটি।
গবেষকরা বলেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত করে ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের, কিন্তু মৃত্যু বেশি হয় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের। এছাড়াও, স্বাস্থ্যকর্মী, গর্ভবতী নারী, একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষদের ঝুঁকি বেশি।
"টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের একটি উপায়। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।"
— তাহমিদ আহমেদ, আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, কক্সবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাহমিদ আহমেদ, মোনালিসা ইনফ্লুয়েঞ্জা, ফাহমিদা চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩% (রোগীর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা), ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮০ (২০১৯ সালে ভর্তি), ১৬ হাজার ৮০৪ (২০১১-১২ সালে মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!