📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দেখায়, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে গাপ্পির চেয়ে ৩০% বেশি কার্যকর। দূষিত পানিতেও এ মাছগুলো লার্ভা খেয়ে টিকে থাকতে পারে
মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পি মাছের তুলনায় দেশীয় তিন প্রজাতির মাছ অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স মশার লার্ভা খেয়ে দূষিত পানিতেও টিকে থাকতে পারে। এছাড়াও, এ মাছগুলো মশার লার্ভার চেয়ে অন্য খাবারকে বেশি পছন্দ করে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নাপিত খয়রা** মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে — স্বাভাবিক পানিতে গড়ে **৯৪.৫টি** এবং দূষিত পানিতে **৯৩.৭৫টি** লার্ভা খেয়ে ফেলেছে ২৪ ঘণ্টায়
- 📌 **জেব্রাফিশ** স্বাভাবিক পানিতে **৮৭টি** এবং দূষিত পানিতে **৮৬.২৫টি** লার্ভা খেয়েছে, যা গাপ্পির তুলনায় **৩০% বেশি**
- 📌 **ব্লু পাঞ্চাক্স** স্বাভাবিক পানিতে **৮০.৭৫টি** এবং দূষিত পানিতে **৭৮.৭৫টি** লার্ভা খেয়ে ফেলেছে
- 📌 গাপ্পি মাছ স্বাভাবিক পানিতে গড়ে **৫৬.৫টি** এবং দূষিত পানিতে **৬১.৫টি** লার্ভা খেয়েছে — সবচেয়ে কম
- 📌 গবেষণায় **১০০টি** করে কিউলেক্স মশার তৃতীয় পর্যায়ের লার্ভা দেওয়া হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টা পর অবশিষ্ট লার্ভা গুনে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়
- 📌 **১০ দিনের পরীক্ষায়** সব মাছই বেঁচে ছিল, তবে দূষিত পানিতে কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল
- 📌 গবেষক **অধ্যাপক কবিরুল বাশার** বলেছেন, এডিস মশার লার্ভাও এই মাছগুলো খেয়ে ফেলতে পারে
📰 বিস্তারিত
মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি খুঁজতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তিন প্রজাতির দেশীয় মাছের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স গাপ্পির চেয়ে অনেক বেশি মশার লার্ভা খেতে পারে। বিশেষ করে দূষিত পানিতেও এ মাছগুলো লার্ভা খেয়ে টিকে থাকতে পারে। গবেষণায় ব্যবহৃত মশার লার্ভা ঢাকার সাভার এলাকার নর্দমা থেকে সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় প্রতিটি মাছকে আলাদা পাত্রে রাখা হয় এবং তাদের সামনে **১০০টি** করে কিউলেক্স মশার তৃতীয় পর্যায়ের লার্ভা দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর অবশিষ্ট লার্ভা গুনে মাছের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, নাপিত খয়রা সবচেয়ে বেশি কার্যকর — স্বাভাবিক পানিতে গড়ে **৯৪.৫টি** এবং দূষিত পানিতে **৯৩.৭৫টি** লার্ভা খেয়ে ফেলেছে। জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে **৮৭** ও **৮৬.২৫টি**। ব্লু পাঞ্চাক্সের ক্ষেত্রে সংখ্যা **৮০.৭৫** ও **৭৮.৭৫টি**। অন্যদিকে, গাপ্পি মাছ স্বাভাবিক পানিতে গড়ে **৫৬.৫টি** এবং দূষিত পানিতে **৬১.৫টি** লার্ভা খেয়েছে — যা সবচেয়ে কম।
গবেষকরা আরও পরীক্ষা করেছেন যে, অন্য খাবার থাকলেও মাছগুলো মশার লার্ভার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়। নাপিত খয়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের লার্ভা বেশি পছন্দ করেছে, ব্লু পাঞ্চাক্স তৃতীয় পর্যায়ের লার্ভা। গাপ্পির ক্ষেত্রে কোনো একটি খাবারের প্রতি স্পষ্ট পছন্দ পাওয়া যায়নি। দূষিত পানিতে মাছের টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করতে ১০ দিন ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। চার প্রজাতির সব মাছই এ সময় বেঁচে ছিল, তবে কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
"শুধু কিউলেক্স নয়, এডিস মশার লার্ভাও এই মাছগুলো খেয়ে ফেলতে পারে। নাপিত খয়রাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন প্রজাতি কোন পরিবেশে ভালো কাজ করবে, তা মাঠপর্যায়ের আরও গবেষণায় নির্ধারণ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সাভার এলাকা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক কবিরুল বাশার, ফারহান চৌধুরীসহ গবেষক দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ প্রজাতির মাছ, ১০০টি লার্ভা, ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষা, ৯৪.৫টি লার্ভা (নাপিত খয়রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!