📌 বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকেরা গোলটেবিল বৈঠকে ব্যক্তিগত ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য ৮টি পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়মিত পরীক্ষা ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলে জানানো হয়েছে
বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের রোগপ্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অচলতা, স্থূলতা এবং অসচেতনতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮টি পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে
- 📌 স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি এড়িয়ে চলা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
- 📌 সপ্তাহে ১৫০ মিনিট নিয়মিত হাঁটাচলা এবং ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
- 📌 প্রি-ডায়াবেটিস শনাক্তের জন্য আগেই পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি
- 📌 ইনসুলিন প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে হবে, নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ
- 📌 ডায়াবেটিসের জটিলতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
‘ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত পদক্ষেপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ৮টি পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠকটি আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি। বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান ফারিয়া আফসানা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক আফসার আহমেদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের চেয়ারম্যান সেহেরীন এফ সিদ্দিকা।
চিকিৎসকরা বলেছেন, ডায়াবেটিস একবার হলে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, সময়মতো পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং জটিলতা শনাক্তে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, রক্তনালির জটিলতা, চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যাহতকরণের কারণ হতে পারে। এতে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ে এবং পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে ৮টি পরামর্শ দিয়েছেন:
"স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর খাবার ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত খাবার ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি এড়িয়ে চলতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কারওয়ান বাজার, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, ফারিয়া আফসানা, আফসার আহমেদ, সেহেরীন এফ সিদ্দিকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ শতাংশ (ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জনসংখ্যা), ৮টি পরামর্শ, ১৫০ মিনিট (সপ্তাহে হাঁটার পরামর্শ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!