📌 জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইছে বাংলাদেশ। কপ৩১ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই দাবি তুলেছেন এবং উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বে নির্গমন কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ এই দাবি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশ অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চাইবে — ঋণ নয়
- 📌 জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা ও অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য অর্থায়ন দাবি
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে অংশ নেবেন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে
- 📌 জলবায়ু তহবিলের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে
- 📌 ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্ব চাইবে বাংলাদেশ
- 📌 কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতের পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে সহায়তা দাবি
- 📌 তুরস্কে ১০০ বর্গমিটার প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে বাংলাদেশ
📰 বিস্তারিত
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কপ৩১ সম্মেলনে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। উপকূল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত ও সহজে অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানো এবং অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।
"জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।"
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে দ্রুত নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ ও বনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কপ৩১ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সংবাদ সম্মেলন), তুরস্কের আনতালিয়া (কপ৩১ সম্মেলন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, ড. সাইমুম পারভেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯-২০ নভেম্বর (কপ৩১ সম্মেলন), ১০০ বর্গমিটার (প্যাভিলিয়ন আয়তন), ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (উষ্ণতা বৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!