📌 গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের জিরকাসের যৌথ গবেষণায় রোগপ্রতিরোধী সয়াবিনের জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের পরিবেশে উপযোগী জাত পরীক্ষা ও নতুন জাত বিকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে
গাজীপুরে বাংলাদেশ-জাপানের যৌথ গবেষণা উদ্যোগে সয়াবিন উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) এবং জাপানের আন্তর্জাতিক কৃষিবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিরকাস) গত বুধবার যৌথ গবেষণা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় রোগপ্রতিরোধী সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন, রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জিরকাসের যৌথ গবেষণা চুক্তি** স্বাক্ষরিত হয়েছে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে।
- 📌 **রোগপ্রতিরোধী সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন** এবং এশিয়ান সয়াবিন রাস্ট রোগের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের লক্ষ্যে গবেষণা শুরু হয়েছে।
- 📌 **জাপানের জিনগতভাবে পরিবর্তিত নয় (নন-জিএম) সয়াবিনের জাত** বাংলাদেশের পরিবেশে মাঠ পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
- 📌 **গবেষণার মাধ্যমে ছত্রাকনাশক ব্যবহার কমিয়ে** উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসের উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে।
- 📌 **গাকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান** বলেছেন, সয়াবিন প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে গাকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জিরকাসের প্রোগ্রাম পরিচালক ড. কেইসুকে ওমোরি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় রোগপ্রতিরোধী সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন, রোগের প্রকৃতি ও বিস্তার বিশ্লেষণ এবং পরিবেশবান্ধব রোগ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। গবেষণায় জিরকাসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ইয়ামানাকা নাওকি ও ড. সাসাকি কাজুহিরো, গাকৃবির পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো: মসিউল ইসলাম, প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: মোতাহের হোসেন, পরিচালক (আইকিউসি) প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী এবং জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হলো এশিয়ান সয়াবিন রাস্ট ও সারকোস্পোরা লিফ ব্লাইট রোগের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং কৃষকের প্রচলিত রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি মূল্যায়ন করা। এছাড়াও, জিরকাস ও দক্ষিণ আমেরিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবিত নন-জিএম সয়াবিনের জাত বাংলাদেশের পরিবেশে মাঠ পরীক্ষা করা হবে। যদি উপযুক্ত জাত পাওয়া না যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি-পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন রোগপ্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের জন্য প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
গবেষণার মাধ্যমে ছত্রাকনাশক ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসের উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে। এছাড়াও, সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল মূল্যায়ন করা হবে। প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, সয়াবিন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং প্রাণিখাদ্য উৎপাদনে প্রোটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
"সয়াবিন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং প্রাণিখাদ্য উৎপাদনে প্রোটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, ড. কেইসুকে ওমোরি, ড. ইয়ামানাকা নাওকি, ড. সাসাকি কাজুহিরো, প্রফেসর ড. মো: মসিউল ইসলাম, প্রফেসর ড. মো: মোতাহের হোসেন, প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, ড. লিয়াকত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০+ বছর (গবেষণা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!