📌 বাগেরহাটের উপকূলীয় নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্র্যের মারাত্মক প্রভাব নিয়ে প্রথম আলো ও বাদাবন সংঘের গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা হয়। দাদন ঋণ, লবণাক্ত পানিতে কাজের কারণে প্রজননস্বাস্থ্য ঝুঁকি, স্কুল ছেড়ে দেওয়া এবং বাল্যবিবাহের মতো সমস্যার মূলে সরকারি নীতি ও সামাজিক সংস্কারকে জবাবদিহি করার দাবি উঠে আসে
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্র্যের কারণে নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এই সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ না করার কারণে সংকট আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার ৬০ হাজার টাকার দাদন ঋণে বাঁধা পড়া পারভীন সুলতানা ও তার স্বামী মাছ ধরার জীবিকা থেকে বের হতে পারছেন না, শারীরিক অসুস্থতা ও দাদন শোধের চাপে জীবন কষ্টকর হয়ে পড়েছে
- 📌 উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানিতে কাজের কারণে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে, অনেকের জরায়ু প্রোল্যাপ্সের সমস্যা থাকলেও সামাজিক সংস্কার থেকে তা লুকিয়ে রাখা হয়
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে, উপকূল এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্যনিরাপত্তা দেখা দিচ্ছে এবং দাদনের চক্রে পরিবারগুলো আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে যাচ্ছে
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, কিন্তু কোনো নীতি গ্রহণের সময় জেন্ডার দৃষ্টিকোণ বাদ পড়ে যায়
- 📌 বাদাবন সংঘের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান দাবি করেছেন, নারী কীভাবে পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাদের জীবন-জীবিকা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার পারভীন সুলতানা ৬০ হাজার টাকার দাদন নিয়ে মাছ ধরার জীবিকা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “স্বামী-স্ত্রী পশুর নদে মাছ ধরি, দাদন শোধের বিনিময়ে মাছ দেই। কিন্তু ঋণের চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মাছ ধরার পাশাপাশি সুপেয় পানি সংগ্রহের চাপ, শারীরিক অসুস্থতা এবং দাদন শোধের চিন্তায় ঘুরপাক খাই।” পারভীনের মতোই এলাকার আরেক নারী কুসুম আক্তার দিনে ১.৫ থেকে ২ কিলোমিটার হেঁটে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করেন। পরিবারে মা, বাবা এবং এক মেয়েসন্তানের সাথে তিনি বাড়ি লাগোয়া দুই বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেন। লবণাক্ত পানিতে কাজের কারণে তার গায়ে প্রায়ই চুলকানি হয়। তিনি বলেন, “এক বছরে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ করলেও চুলকানি থেকে মুক্তি পাচ্ছি না।”
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা উপকূলীয় এলাকায় নারীদের জীবিকা ও স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরেন। ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও, উপকূল এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। একেকটি পরিবার দাদনের চক্রে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে যাচ্ছে। জীবিকার প্রয়োজনে লবণাক্ত পানিতে বেশি সময় থাকার কারণে অনেক নারী প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। পুরুষেরা অন্য এলাকায় কাজের সন্ধানে গেলে সংসারের চাপ নারীর ওপর পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে এলাকায় বাড়ে বাল্যবিবাহ এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ও জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ইকবাল কবীর বলেন, “লবণাক্ততার কারণে সাধারণভাবে একজন নারী প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়েন না। তবে উপকূলীয় নারীদের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো অনেকের জরায়ু প্রোল্যাপ্স হলেও সামাজিক সংস্কার থেকে তা লুকিয়ে রাখেন। ওই অবস্থায় লবণাক্ত পানিতে কাজ করার কারণে তাঁরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের হিস্টেরেক্টমি অপারেশন করতে হয়।”
"জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যেকোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও কোনো নীতি গ্রহণের সময় জেন্ডার দৃষ্টিকোণ বাদ পড়ে যায়। যেকোনো নীতি গ্রহণের সময় নারীর প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।"
— প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) মো. সাইমুম পারভেজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলা, পশুর নদ, রাজধানীর কারওয়ান বাজার (প্রথম আলো কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পারভীন সুলতানা, কুসুম আক্তার, মো. সাইমুম পারভেজ, অধ্যাপক ইকবাল কবীর, লিপি রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার টাকা (দাদন ঋণ), ১৭-১৮ হাজার টাকা (চুলকানি চিকিৎসা খরচ), ২ কিলোমিটার (পানি সংগ্রহের দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!