📌 গ্লুকোমা শুধু বয়স্কদের রোগ নয়—শিশুরাও জন্মগত বা স্টেরয়েড ড্রপের কারণে আক্রান্ত হতে পারে। চোখের প্রেশার বাড়লে অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞ ডা. ইফতেখার মুনির বলেছেন, প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চোখের মণি বড় দেখাচ্ছে, আলো সহ্য করতে পারে না, পানি পড়া ইত্যাদি। সময়মত চিকিৎসা না করলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে
গ্লুকোমা একটি চোখের রোগ যা শুধু বয়স্কদের নয়, শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে। এই রোগে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বা প্রেশার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, ফলে রেটিনাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্ধত্বের দিকে পরিচালিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির বলেছেন, শিশুরাও জন্মগতভাবে গ্লুকোমা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুর চোখ অন্য শিশুদের তুলনায় বড় হয়ে যেতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জন্মগত গ্লুকোমা**: শিশুর জন্মের পর চোখের আকার অন্য শিশুদের তুলনায় বড় হয়ে যেতে পারে, চোখজুড়ে কালো মণি ভারী ও ভেজা ভাব ধারণ করে, পানি পড়ে এবং আলো সহ্য করতে পারে না।
- 📌 **স্টেরয়েড ড্রপের ঝুঁকি**: শিশুর অ্যালার্জি বা অন্যান্য কারণে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ চোখে ব্যবহার করা হলে, পাঁচ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্লুকোমা হতে পারে।
- 📌 **লক্ষণ**: চোখ দিয়ে পানি পড়া, সরাসরি আলোর দিকে তাকাতে না পারা, চোখের মণি ঘোলা হয়ে যাওয়া, চোখের মণি বড় দেখাচ্ছে—এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্কতা নেওয়া উচিত।
- 📌 **চিকিৎসা পদ্ধতি**: ওষুধ প্রয়োগ, লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউবস, মিনিমালি ইনভ্যাসিভ গ্লুকোমা সার্জারি—রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।
- 📌 **সময়মত চিকিৎসার গুরুত্ব**: প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করলে দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরে অস্ত্রোপচার করেও লাভ হয় না।
📰 বিস্তারিত
গ্লুকোমা একটি ধীরগতির রোগ, যা চোখের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণগুলি প্রায়ই অভিভাবকদের চোখে পড়তে পারে না। বিশেষজ্ঞ ডা. ইফতেখার মুনির বলেছেন, শিশুদের চোখ পরীক্ষা করা কঠিন এবং চোখের প্রেশার মাপা আরও বেশি কঠিন। এ কারণে অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের কাছে আসতে চান না এবং বাজার থেকে ওষুধ কিনে নিজেরাই ব্যবহার করেন, যা সমস্যা আরও জটিল করে তোলে।
গ্লুকোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে চোখের মণি বড় দেখাচ্ছে, চোখ দিয়ে পানি পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং চোখের মণি ঘোলা হয়ে যাওয়া। যদি এই লক্ষণগুলি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডা. মুনির বলেছেন, চিকিৎসা করতে অহেতুক দেরি করলে দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ওষুধ প্রয়োগ সবচেয়ে সাধারণ। তবে কিছু ক্ষেত্রে লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউবস বা মিনিমালি ইনভ্যাসিভ গ্লুকোমা সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে রোগীর অবস্থা এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের উপর।
"চিকিৎসা করতে অহেতুক দেরি করলে দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, মালিবাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ শতাংশ (স্টেরয়েডের কারণে গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!