📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮ মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় দেশের শীর্ষে রয়েছে। হাসপাতালে শয্যা সংকট, মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য রোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যু সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০-এর মধ্যে। পৌর এলাকায় ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে ৮ মাস ধরে শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা এবং ঘটছে প্রাণহানি। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮ মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় দেশের শীর্ষে — প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু
- 📌 ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রায় ৭০০ জন রোগী ভর্তি — শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করছেন
- 📌 স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৫২টি বাড়ির মধ্যে ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের দাবি, এ পর্যন্ত ৭৫ থেকে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে
- 📌 হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, হাসপাতালের অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে
- 📌 জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী নির্দেশ দিয়েছেন, পৌর এলাকায় আটটি বিশেষ টিম গঠন করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করা
📰 বিস্তারিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণে বিপর্যস্ত। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই জেলা দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রায় ৭০০ জন রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেন অপরিষ্কার এবং অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের কারণে পানি জমে থাকছে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা বাড়ছে। দিন-রাত মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। ডেঙ্গুতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, তাদের মহল্লায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বরে ভুগছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকায় ডেঙ্গুতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, মশার কারণে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। তিনি দাবি করেন, দ্রুত কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন।
শান্তিমোড় এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা নাজুক। কোথাও ড্রেন নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত, আবার কোথাও পানি চলাচলের পথ বন্ধ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
"ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৫ থেকে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এনে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা প্রয়োজন।"
— চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা (মসজিদপাড়া, শান্তিমোড় এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল ওয়াহেদ (চেম্বার সভাপতি), আব্দুল আলিম, আসমা বেগম, আতাউর রহমান, ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ মাস, ২৫০ শয্যা, ৭০০ জন রোগী, ৭৫-৮০ জন মৃত্যু, ৩৬ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা, ১৫২টি বাড়ি পরীক্ষা করা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!