📌 ভারতের নাগপুরের এক নারীর পেটে ৩৬ বছর ধরে মৃত ভ্রূণ ক্যালসিয়াম স্তরে আবৃত হয়ে ‘পাথর শিশু’তে পরিণত হয়েছিল। প্রসবের ভয়ে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যথায় ভোগার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করেন
ভারতের নাগপুরের এক ৬০ বছর বয়সী নারীর পেটে ৩৬ বছর ধরে মৃত ভ্রূণ ক্যালসিয়াম স্তরে আবৃত হয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’ বা ‘পাথর শিশু’। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রসবের ভয়ে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যথায় ভোগার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের নাগপুরের এক নারীর পেটে ৩৬ বছর ধরে মৃত ভ্রূণ ক্যালসিয়াম স্তরে আবৃত হয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল
- 📌 চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’ বা ‘পাথর শিশু’
- 📌 প্রসবের ভয়ে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যথায় ভোগার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা হয়েছে
- 📌 অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা মৃত ভ্রূণটির আকার ছিল প্রায় ১১×৮×৮ সেন্টিমিটার
📰 বিস্তারিত
ভারতের নাগপুরের এক ৬০ বছর বয়সী নারীর পেটে ৩৬ বছর ধরে মৃত ভ্রূণ ক্যালসিয়াম স্তরে আবৃত হয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’ বা ‘পাথর শিশু’। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রসবের ভয়ে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যথায় ভোগার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা হয়েছে।
নারীটি প্রথমে তলপেটে ব্যথা ও একটি শক্ত চাকা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। প্রায় দুই মাস ধরে তার এই সমস্যা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো কোনো টিউমার। পরে তার চিকিৎসা-ইতিহাস খতিয়ে দেখে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে তিনি শেষবার গর্ভবতী হয়েছিলেন। তখন চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে এবং অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের ভয় পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে নিজ গ্রামে ফিরে যান। এরপর আর অস্ত্রোপচার করাননি। বছরের পর বছর মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা হলেও তিনি স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে তা সামলে নিতেন।
পেটের চিত্রায়ন পরীক্ষায় দেখা যায়, জরায়ুর পেছনে প্রায় ১১ বাই ৮ বাই ৮ সেন্টিমিটার আকারের একটি শক্ত পিণ্ড রয়েছে। এর ভেতরে স্পষ্টভাবে কয়েকটি হাড়ের মতো কাঠামো দেখা যায়। চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়, এটি মৃত ভ্রূণের অবশিষ্টাংশ হতে পারে। পরে অস্ত্রোপচার করে পিণ্ডটি বের করা হয়। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, একটি আবরণে ঘেরা শক্ত পিণ্ডের ভেতরে ভ্রূণের হাড় রয়েছে। পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি লিথোপেডিয়ন বা দীর্ঘদিন ধরে পেটের ভেতরে থাকা ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া মৃত ভ্রূণ।
"লিথোপেডিয়ন সাধারণত জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভ জরায়ুর বাইরে, পেটের ভেতরে স্থাপিত হলে এবং ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পরও শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মৃত ভ্রূণটি যদি মায়ের শরীরের জন্য খুব বড় হয় এবং সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে, তখন শরীর সেটিকে একটি বিদেশি বস্তুর মতো ঘিরে ফেলে। সময়ের সঙ্গে সেখানে ক্যালসিয়াম জমতে থাকে। ফলে ভ্রূণের শরীর ধীরে ধীরে শক্ত ও পাথরের মতো হয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের নাগপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৬০ বছর বয়সী নারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বছর, ১১×৮×৮ সেন্টিমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!