📌 চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার মরদেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ডুবে যান। সাক্ষী তানভীর শাহরিয়ার। চিকিৎসক ডা. রাজেশ দেব: সিপিআর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বেঁচে থাকার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এভারকেয়ারে অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন মৃত্যু নিশ্চিত।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্ণব সাহা—তিনি চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু পুকুরে গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ করে তাঁরা খেয়াল করেন অর্ণবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তাঁর নাম ধরে ডেকে টর্চ দিয়ে পুকুরে খোঁজ করতে থাকেন। চুয়েট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক রাজেশ দেব জানিয়েছেন—সিপিআর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- নিহত: অর্ণব সাহা—চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
- ঘটনাস্থল: কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুর।
- সময়: মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অর্ণব ও কয়েকজন বন্ধু গোসল করতে নামেন।
- উদ্ধার: বন্ধুরা খেয়াল করেন অর্ণবের খোঁজ নেই—নাম ধরে ডাকা, টর্চ দিয়ে খোঁজ; পরে পুকুরঘাটের পাশে পানির নিচে মরদেহ পাওয়া যায়।
- সাক্ষী: তানভীর শাহরিয়ার (তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ, ২০২২-২৩, শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল)—সবার চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন দেহ তোলার দৃশ্য।
- চিকিৎসা: স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিপিআর দেওয়া হয়—কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি; বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে ছিলেন।
- চিকিৎসক: ডা. রাজেশ দেব (চুয়েট স্বাস্থ্যকেন্দ্র)।
- হাসপাতাল: পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়—অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন (যন্ত্রকৌশল বিভাগ) মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোসলের সময় ঘটনা
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অর্ণবের মরদেহ উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুকুরে গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ করে তাঁরা খেয়াল করেন অর্ণবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তাঁর নাম ধরে ডেকে টর্চ দিয়ে পুকুরে খোঁজ করতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই সময় তাঁদের কোলাহল শুনে আশপাশের হল থেকে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। একপর্যায়ে পুকুরঘাটের পাশে পানির নিচে এক শিক্ষার্থী অর্ণবের মরদেহ খুঁজে পান। এই ঘটনা দেখায় যে গোসলের সময় একজন শিক্ষার্থীর ডুবে যাওয়া কত দ্রুত ঘটতে পারে—বন্ধুরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করা সম্ভব হয়নি।
তানভীর শাহরিয়ারের সাক্ষ্য
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর শাহরিয়ার বলেছেন, 'আমরা শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের নিজের কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সবার চিৎকার শুনে সেখানে যাই। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর খোঁজাখুঁজি শেষে তাঁর দেহ হলের পুকুর থেকে তুলতে দেখি।'
তানভীরের সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে, অর্ণবের বন্ধুরা যখন তাঁকে খুঁজছিলেন, তখন শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসেছিলেন। একাধিক হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অর্ণবকে বাঁচানো যায়নি—যা এই ধরনের ঘটনার গুরুত্ব প্রমাণ করে।
ডা. রাজেশ দেব: 'বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ পাইনি'
চুয়েটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক রাজেশ দেব বলেছেন, 'তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে নিয়ে এলে আমরা সমস্ত যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। সিপিআর (জরুরি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাইনি। বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে ছিল। তাই আগেই মারা গেছে।'
ডা. দেবের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অর্ণবকে যখন পানি থেকে তোলা হয় তখন তিনি ইতিমধ্যেই মৃত ছিলেন। সিপিআর দিলেও তাকে ফিরিয়ে আনা যায়নি—কারণ তিনি 'বেশ কিছুক্ষণ' পানির নিচে ছিলেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—যদি আগে তাকে পাওয়া যেত, হয়তো তাকে বাঁচানো যেত।
এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যু নিশ্চিত
পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পর অর্ণবকে এভারকেয়ার হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, তাকে এভারকেয়ারে নিয়ে আসা হয়েছিল—এখন বেঁচে নেই।
অধ্যাপক হোসাইন অর্ণবের নিজ বিভাগের শিক্ষক—তাঁর উপস্থিতি দেখায় যে বিভাগীয় শিক্ষকরা ছাত্রের প্রতি দায়বদ্ধ এবং এই ধরনের দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রের পাশে দাঁড়ান। অর্ণবের মৃত্যু চুয়েট ক্যাম্পাসে একটি গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে—যার প্রতিফলন 'চুয়েট শিক্ষার্থীর লাশের পাশে মায়ের আহাজারি' শিরোনামের পরের দিনের প্রতিবেদনে দেখা যায়।
হল পুকুরে গোসলের ঝুঁকি
এই ঘটনা হল পুকুরে গোসলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর পুকুর সাধারণত গভীর হয় এবং সন্ধ্যার পরে দৃশ্যমানতা কমে যায়—যা গোসলরত অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হল পুকুরে গোসল নিষিদ্ধ করা বা নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা করা—যেমন সাঁতার কাটার জন্য নির্ধারিত সময়, লাইফগার্ডের উপস্থিতি এবং পুকুরের গভীরতা চিহ্নিত করা।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সাঁতার না জানলে গভীর পানিতে না নামার পরামর্শ দেওয়া উচিত এবং সন্ধ্যার পরে একা গোসল না করার নিয়ম প্রযোজ্য করা উচিত। চুয়েটের এই ট্র্যাজেডি একটি হারিয়ে যাওয়া জীবন—যা সঠিক সতর্কতা ও নিয়ম প্রয়োগ করলে এড়ানো যেত বলে মনে হচ্ছে।
'তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে নিয়ে এলে আমরা সমস্ত যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। সিপিআর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাইনি। বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে ছিল। তাই আগেই মারা গেছে।'—ডা. রাজেশ দেব, চুয়েট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!