📌 আজ ২৯ অক্টোবর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত ও শহীদুল্লাহ কায়সার নেতৃত্বে উদীচী ১৯৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশের গণসংগ্রামের মশাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাদের স্লোগান 'সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির' আজও প্রাসঙ্গিক
আজ ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। ১৯৬৮ সালের এই দিনে মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখের নেতৃত্বে উদীচী যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক ধরে উদীচী শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, বরং শোষিত-নির্যাতিত মানুষের দ্রোহের মশাল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের সচেতন সিদ্ধান্তে সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছিল 'উদীচী' — যার অর্থ ধ্রুবতারা বা উত্তর দিক। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গণমানুষের অধিকারের সংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সঠিক পথ দেখাতে উদীচী ৫৭ বছর ধরে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ অক্টোবর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, যা ১৯৬৮ সাল থেকে গণসংগ্রামের মশাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে
- 📌 উদীচীর স্লোগান 'সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির/দিন নেই তর্ক ও যুক্তির' সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আজও প্রাসঙ্গিক
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার রাষ্ট্রঘাতী পদক্ষেপকে উদীচী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে দেখছে
- 📌 উদীচী মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক আদর্শকে গণমানুষের নিজস্ব ভাষায় রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে
- 📌 ১৯৯৯ সালের যশোর টাউন হলের বোমা হামলা ও ২০০৫ সালের নেত্রকোনা কার্যালয়ে জঙ্গি হামলায় উদীচী হারিয়েছে কর্মীদের জীবন
📰 বিস্তারিত
উদীচী প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত কৌশলগত অংশীদারত্বের আড়ালে যে জনবিরোধী চুক্তি হয়েছে, তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদীচী এই চুক্তিকে রাষ্ট্রঘাতী অপতৎপরতা হিসেবে দেখছে এবং গণ-প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পও দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় আজ সুপরিকল্পিতভাবে পদদলিত করার চেষ্টা চলছে। উদীচী বিশেষভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর আক্রমণকে নজরে রেখেছে। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রসংগীত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বাংলার মানুষের লড়াই ছিল মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ভিত্তি। উদীচী বিশ্বাস করে, রবীন্দ্রনাথের রচনা ও দর্শন বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তা টিকিয়ে রাখার মৌলিক পরিচয়।
প্রায় ছয় দশক ধরে উদীচীর পথচলা সহজ ছিল না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উদীচীর কর্মীরা কাঁধে রাইফেল তুলে লড়াই করেছিলেন। স্বাধীন দেশে সামরিক দুঃশাসন, স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তারা রাজপথে লড়াই করেছেন। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হলের দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলায় এবং ২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর নেত্রকোনার কার্যালয়ে জঙ্গিদের বোমা হামলায় উদীচী হারিয়েছে তার নিবেদিত কর্মীদের জীবন। কিন্তু রক্তের বিনিময়েও উদীচী মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক আদর্শের লড়াই অব্যাহত রাখছে।
"সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির/দিন নেই তর্ক ও যুক্তির" — এই স্লোগানই আজকের সংক্ষুব্ধ সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ঢাকা, চট্টগ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮ (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী), ১৯৬৮ (প্রতিষ্ঠা বছর), ৬ (মার্চ), ৪ (ডিসেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!