📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ন্যূনতম মজুরি দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর পিছনে পরাজিত শক্তির হাত রয়েছে
সিলেট: ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেছেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এতে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রিজভী দাবি করেছেন, শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর পিছনে পরাজিত শক্তির হাত রয়েছে এবং এতে দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়।
- 📌 সোমবার সিলেটের দরগাহ গেট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেছেন, পুলিশ ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের একজন উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজেই ফেসবুকে স্বীকার করেছেন উসকানির কর্মকাণ্ড।
- 📌 রিজভী বলেছেন, পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক উন্নতির কাজ করছে, এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহের সংকট মোকাবেলা করছে।
- 📌 স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচনে এলাকার নেতারা আলোচনা করে প্রার্থী বাছাই করবেন।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে রিজভী বলেন, ‘তারা এখানে হস্তক্ষেপ করছে, উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’
রিজভী আরও বলেন, ‘পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই চেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ শীর্ষক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র আট মাস হলো এই সরকারের বয়স। এই সরকার দেশের উন্নতি, আর্থিক উন্নতি, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করছেন। সেখান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে এসে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছেন।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছর লড়াই করেছে। অনেক রক্ত ঝরিয়ে, অনেক জীবন উৎসর্গ করে সেই লড়াই চালিয়েছে। অন্যদিকে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জনগণ বুঝতে পারছে।’ তিনি বলেন, ‘এ দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবং তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচনে তিনি বলেন, ‘এলাকার মধ্যে কে উপযুক্ত প্রার্থী, কার জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।’
"তারা এখানে হস্তক্ষেপ করছে, উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, দরগাহ গেট এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন (গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মী), ১৭ বছর (বিএনপির গণতন্ত্রের লড়াই), ১২ ফেব্রুয়ারি (বিএনপির ক্ষমতায় আসা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!