📌 যুগান্তর প্রতিবেদন। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইসি যে কোনো সময় নির্বাচন আয়োজনে পুরোপুরি প্রস্তুত। সিইসি নিজেই রিটার্নিং অফিসার, কমিশন প্রাঙ্গণ থেকে কার্যক্রম। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরের বড় দায়িত্ব—দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করতে চায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়নি—তবে প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন—কমিশন যে কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এ কথা বলেছেন। সিইসি নিজেই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কমিশন প্রাঙ্গণ থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- সিইসি: এএমএম নাসির উদ্দিন—নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
- আলোচনা: মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে।
- তফশিল: এখনো চূড়ান্ত হয়নি—স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে, গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
- রিটার্নিং অফিসার: সিইসি নিজেই দায়িত্ব পালন করবেন; কমিশন প্রাঙ্গণ থেকেই কার্যক্রম।
- সাংসদীয় অধিবেশন: উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা তৈরি করবে না।
- পরবর্তী দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচন—তাই দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন।
- আইনি ভিত্তি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১—সিইসি 'নির্বাচনি কর্তা', তফশিল দেবেন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ভোটার: সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন।
সিইসি নাসির উদ্দিনের বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়নি—তবে প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন—কমিশন যে কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এ কথা বলেছেন।
সিইসি জানিয়েছেন—নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে এবং তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। চিফ ইলেকশন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কমিশন প্রাঙ্গণ থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সাংসদীয় অধিবেশনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা তৈরি করবে না বলেও তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
'দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন'
তিনি আরও জানিয়েছেন—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বড় দায়িত্ব থাকায় দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্ব শেষ করতে চায় কমিশন। একইসঙ্গে সাংসদীয় আসন সংক্রান্ত অন্যান্য আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো আঞ্চলিক আসন বা বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে যথাসময়েই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হবে।
সিইসির এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে একটি ধাপ হিসেবে দেখছে—যার পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করার ইচ্ছা দেখায় যে কমিশন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করতে চায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের 'নির্বাচনি কর্তা' হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে তফশিল দেবেন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন সংসদ সদস্যরা।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান—কিন্তু তিনি সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন না। সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ায় এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম নির্ধারিত—যেখানে সংসদ সদস্যরা এবং সংসদ সদস্যদের সমপরিমাণ সংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা ভোট দেন।
প্রেক্ষাপট: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর স্পিকার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—এবং এখন তাঁর সঙ্গে সিইসির আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। সিইসির এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে নির্বাচন কমিশন এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য প্রস্তুত—এবং স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তফশিল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
'কমিশন যে কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে এবং তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।'—এএমএম নাসির উদ্দিন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!