📌 যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্পের নীতিগুলো সমালোচনা করলেও তাঁর নিজের শাসনামলে অভিবাসী বহিষ্কার, যুদ্ধ ও নির্যাতনের ইতিহাসকে কেন ডেমোক্র্যাটরা উপেক্ষা করছেন? জোসেফ মাসাদের বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী মাঠে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে প্রচারাভিযানে নেমেছেন। ওহাইও ও মিশিগানে বক্তৃতায় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো সমালোচনা করলেও, তাঁর নিজের শাসনামলে গৃহীত নীতিগুলো তরুণ ভোটারদের চাহিদার বিপরীত। হার্ভার্ড ইয়ুথ পোলের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত তরুণ ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তারা ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওবামা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্পের নীতিগুলো সমালোচনা করলেও তাঁর নিজের শাসনামলে অভিবাসী বহিষ্কারের রেকর্ড ছিল ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ হিসেবে পরিচিত
- 📌 ওবামা আমলে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যার মধ্যে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী মা ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
- 📌 ২০১৪ সালে ওবামা পরিবারসহ অভিবাসীদের আটক রাখার ব্যবস্থা চালু করেন, যা পরবর্তীতে ৩ হাজার ৭০০ শয্যা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল
- 📌 ওবামা আমলে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে এক লাখের বেশি আফগান ও ইরাকি এবং আড়াই হাজার মার্কিন নাগরিক নিহত হন, এছাড়াও ড্রোন হামলায় শত শত বেসামরিক নিহত হন
- 📌 ওবামা ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধের সমালোচনা করলেও তাঁর নিজের শাসনামলে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছিলেন
- 📌 ডেমোক্র্যাটরা তরুণ ভোটারদের চাওয়া পরিবর্তনের বদলে ওবামাকে ব্যবহার করছেন, যিনি ইসরায়েলের গণহত্যা ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সমবেদনা দেখাননি
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে নেমেছেন। ওহাইও ও মিশিগানে বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো সমালোচনা করলেও, তাঁর নিজের শাসনামলে গৃহীত নীতিগুলো তরুণ ভোটারদের চাহিদার বিপরীত। হার্ভার্ড ইয়ুথ পোলের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত তরুণ ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশ কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তারা ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলেছেন।
ওবামা আমলে অভিবাসী বহিষ্কারের রেকর্ড ছিল ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর শাসনামলে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী মা ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে ওবামা পরিবারসহ অভিবাসীদের আটক রাখার ব্যবস্থা আবার চালু করেন। পরের বছর এই ধরনের বন্দী রাখার সক্ষমতা ১০০টির কম শয্যা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ করা হয়েছিল।
ওবামা আমলে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে এক লাখের বেশি আফগান ও ইরাকি এবং আড়াই হাজার মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ইয়েমেনে ড্রোন হামলায় ১৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক আবদুর রহমান আল-আওলাকি নিহত হন। ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠান, পাকিস্তানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং আফগানিস্তানের কুন্দুজে হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলায় শত শত মানুষ নিহত হন।
ওবামা ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধের সমালোচনা করলেও তাঁর নিজের শাসনামলে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ওবামা, কিন্তু তাঁর শাসনামলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ, হন্ডুরাসে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে সমর্থন, আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্বৈরশাসকের প্রতি সহযোগিতা এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলার হুমকির মতো কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।
ইসরায়েলের প্রতিও ওবামার সমর্থন ছিল অকুণ্ঠ। ইসরায়েলি হামলায় নিহত হাজার হাজার আরব বেসামরিক মানুষের প্রতিও তিনি সমবেদনা জানাননি। বরং ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার সমালোচনা করেন। ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের হাতে ইহুদিদের ওপর সংঘটিত হলোকাস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরবদের তা উপলব্ধি করতে বলেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি উপনিবেশবাদী শাসন ও বাস্তুচ্যুতির চলমান ইতিহাস এড়িয়ে যান।
"তরুণ ভোটারদের চাওয়া পরিবর্তনের বদলে ডেমোক্র্যাটরা ওবামাকে ব্যবহার করছেন, যিনি নিজের শাসনামলে নিষ্ঠুর নীতিগুলোই টিকিয়ে রেখেছেন। ওবামা বলেছিলেন, অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো উচিত। কিন্তু তিনি নিজেই বুশ প্রশাসনের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের উদ্যোগ নেননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওহাইও, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জোসেফ মাসাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ (অভিবাসী বহিষ্কার), ৩ হাজার ৭০০ (বন্দী শয্যা), ২১ জন (মার্কিন সেনা নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!