📌 বিএনপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ব্যর্থতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রাখলে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারা যাবে না। তিনি সরকারের সংস্কার নীতিরও সমালোচনা করেছেন
বিএনপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ব্যর্থতার সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রাখলে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় অস্পষ্ট ও প্রতারণামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয় — এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দাবি
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংস্কার ইস্যুতে প্রতারণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রশ্নে 'পল্টনের বক্তব্য' বা 'রাজপথের বক্তব্য' বলে কথা এড়িয়েছেন
- 📌 সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ঘটনায় ভিকটিমকে দোষারোপ করা হচ্ছে — প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ঘটনাটি নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে
- 📌 পুলিশের দলীয়করণের কারণে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারছে না — গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনাটি উল্লেখ করে নাহিদ
- 📌 জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি 'জনবিরোধী' — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন সংস্কারে রাজি হওয়ার পিছনে নির্বাচনের স্বার্থ
- 📌 স্থানীয় সরকার নির্বাচন দফায় দফায় পিছিয়ে যাচ্ছে — সরকারের মন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের কারণে
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বক্তব্যে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি — নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতা উল্লেখ করে নাহিদ
📰 বিস্তারিত
সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি দায়িত্ব পালনে ইতিমধ্যে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন। নাহিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংস্কার ইস্যুতে জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলার অভিযোগ তুলেছেন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'এটা পল্টনের বক্তব্য' বা 'এটা রাজপথের বক্তব্য' বলে কথা এড়িয়ে যেতেন। তিনি বলেন, জনগণের সামনে স্পষ্ট যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ঠিক নেই এবং এটার জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী।
নাহিদ আরও বলেছেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি সরকার নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ঘটনায় ভিকটিমকে দোষারোপ করা হচ্ছে। নাহিদ বলেন, সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর ও ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। সরকার নানাভাবে ঘটনাটিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করছে।
পুলিশের অবস্থান নিয়ে নাহিদ বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পুলিশ পারছে না। গুলশানের মতো জায়গায় আ. লীগ মিছিল করছে। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশের চরিত্র পরিবর্তন হয়নি এবং তারা চাঁদাবাজির ভাগে অংশীদার হচ্ছে। পুলিশ কমিশন না হওয়ার কারণে পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় পুলিশের প্রমোশন ও পোস্টিং সরকারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দলীয় পুলিশের আবির্ভাব ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা, কিন্তু তা দফায় দফায় পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না হওয়ার সমালোচনা করে নাহিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রকল্পগুলোর কথা বলেছেন, কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বক্তৃতা দিয়েছেন, কিন্তু এটাই তাদের অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে, যা লজ্জার বিষয়।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, এটি একটি জনবিরোধী কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন সংস্কারে রাজি হওয়ার পিছনে নির্বাচনের স্বার্থ। তিনি বলেন, সংশোধনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না এবং এটি বিএনপির নাটক। তিনি দাবি করেছেন, দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভা ডাকতে হবে, নতুবা এনসিপি কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
"এই সরকার বলেছিল, ‘নির্বাচিত সরকার আসলে দেশে মব থেমে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ঠিক থাকবে, সবকিছুই তারা বলেছিল।’ কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি যে বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে এবং তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (রাজনৈতিক পর্ষদ সভা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার, জরুরি সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!