📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অজ্ঞতা ও প্রথাগত রাজনীতির অন্ধতা এই ধরনের আচরণের পেছনে মূল কারণ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চের প্রতি সরকারের ঈর্ষা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ সোমবার সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অজ্ঞতা ও প্রথাগত দলীয় রাজনীতির অন্ধতা এই ধরনের আচরণের পেছনে মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে ছিঁড়ে ফেলা তিনটি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি — শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার প্রতিবাদ জানানোর অংশ হিসেবে
- 📌 জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন: ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অজ্ঞতা ও প্রথাগত রাজনীতির অন্ধতা এই আচরণের পেছনে মূল কারণ’
- 📌 বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ জামায়াতের সেক্রেটারি — সরকার ও পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর মা খালেদা জিয়াও জামায়াতের সঙ্গে লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
- 📌 সিরাতুন্নবী কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
এই ঘটনার প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা অবগত হয়েছি। আমরা বলব যে যাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস জানেন না, বাংলাদেশের জন্মের সৃষ্টির পেছনের কথা যাঁরা জানেন না, এই ভূখণ্ডের আজাদ এবং স্বাধীন করার পেছনে কারা কারা লড়াই করেছেন, কী কী অবদান ছিল—এই রাজনীতির ইতিহাস থেকে যাঁরা অজ্ঞ আছেন, শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘উনি যে আন্দোলন করেছিলেন, যে কথা বলেছিলেন, এই ভূখণ্ডের সমস্ত দেশপ্রেমিক নাগরিক সে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এগুলোর ইতিহাস জানতে হবে। রাজনীতিতে ইমম্যাচুরিটি থাকলে বহু কাজ, বহু দায়িত্ব এমন হয়ে যায়, যেগুলো মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ঈর্ষাপরায়ণ মনোভাবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সরকারের কিছু ব্যক্তি ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করা হচ্ছে। তারা মনে করেছিল, লংমার্চের মাধ্যমে সন্ত্রাস, নাশকতা, আগুন, ভাঙচুর হবে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে উসকানি দেওয়ার জন্য তারা কিছু বক্তব্য দেয়। বিরোধী দল কোনো উসকানিতে পা দেবে না।’
বিরোধী দলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘বিরোধী দলের দাবিগুলো মেনে নিলে লংমার্চ করার প্রয়োজন পড়ত না। লংমার্চ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মা (খালেদা জিয়া) যখন বিরোধী দলে ছিলেন, তখন জোটগতভাবে জামায়াতও বিএনপির সঙ্গে লংমার্চ করেছিল এবং তিনি সে লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লংমার্চ কেন করতে হয়, কখন করতে হয়—এই সমীকরণ সরকারে থাকলে বোঝা যায় না, বিরোধী দলে থাকলেই বোঝা যায়।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘লংমার্চ করে সমাধান করা গেলে সরকার সেটিই করত। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁর জায়গা থেকে এমন কথা মানানসই নয়। বিরোধী দল এ বক্তব্য ভালোভাবে নেয়নি এবং জনগণও এটিকে সমীচীন মনে করেনি। সরকার, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে লংমার্চে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, আগের মতো লংমার্চ শান্তিপূর্ণ করতে সহযোগিতা পাবেন।’
'আমরা অবগত হয়েছি। আমরা বলব যে যাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস জানেন না, বাংলাদেশের জন্মের সৃষ্টির পেছনের কথা যাঁরা জানেন না, এই ভূখণ্ডের আজাদ এবং স্বাধীন করার পেছনে কারা কারা লড়াই করেছেন, কী কী অবদান ছিল—এই রাজনীতির ইতিহাস থেকে যাঁরা অজ্ঞ আছেন, শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু সংগ্রহশালা), কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি), রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল), আবু তৈয়ব হাবিলদার (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!