📌 দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ছয়টি সরকারবিরোধী আন্দোলন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রতিটি দেশে আন্দোলনের ফল ভিন্ন হয়েছে — মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় সাংবিধানিক পদত্যাগ, বাংলাদেশে সরকারের পতন, নেপালে অভিজাতদের ক্ষমতা হারানো।
দক্ষিণ এশিয়ায় গত পাঁচ বছরে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ছয়টি সরকারবিরোধী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাবিরোধী আন্দোলন রাজনীতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে। এই আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ নীতি লক্ষ্য করা যায় — তরুণদের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক হতাশা, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের দক্ষতা এবং ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা। তবে প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে আন্দোলনগুলোর ফল ভিন্ন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মিয়ানমার**: সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২০২১ সালে তরুণরা বেসামরিক প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলার পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়েছে
- 📌 **শ্রীলঙ্কা**: অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ প্রাসাদ দখলকৃত বিক্ষোভের পর সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করেন
- 📌 **পাকিস্তান**: ২০২৩ সালে ইমরান খানের গ্রেপ্তার পর সেনা-প্রভাবিত 'হাইব্রিড' শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়েছে
- 📌 **বাংলাদেশ**: ২০২৪ সালের জুলাইতে শিক্ষার্থীদের কোটাব্যবস্থা বিরোধী আন্দোলন স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়, প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান
- 📌 **নেপাল**: ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত বিক্ষোভকে জ্বালিয়ে তোলে, অভিজাত রাজনৈতিক শ্রেণির ক্ষমতা হারানো হয়
- 📌 **ভারত**: শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা ফাঁসের অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলন সাংবিধানিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেনি, সরকার দাবি মেনে নেয়
📰 বিস্তারিত
মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর তরুণরা শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পথ বন্ধ দেখে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বেসামরিক প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধের ফলস্বরূপ দেশে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে শুরু হওয়া ‘আরাগালায়া’ আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে নেন। তবে এই আন্দোলনে সহিংসতা বাড়েনি এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পদত্যাগ করেন।
পাকিস্তানে ২০২৩ সালের মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর দাঙ্গা শুরু হয়। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়। এর ফলে দেশে ‘হাইব্রিড’ শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর করেছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটাব্যবস্থা বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকারের স্বৈরাচারী পন্থা এবং সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ নির্দেশের প্রতিবাদে আন্দোলন দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনী গুলি করার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার পর প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী সুবিধাভোগী রাজনৈতিক শ্রেণি। তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে শেষ আঘাত হিসেবে দেখে বিশাল বিক্ষোভ সংগঠিত করেন। কর্তৃপক্ষের শক্তি প্রয়োগের মুখে বিক্ষোভকারীরা পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং অভিজাতদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। পরে নেপালের মানুষ ৩৫ বছর বয়সী একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন।
ভারতে চলতি গ্রীষ্মে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা ফাঁসের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে তরুণদের উদ্বেগকে জ্বালিয়ে তোলে। তবে এই আন্দোলন সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেনি। সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণ করে এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব দেয়।
"আমরা দেখছি, জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে এই আন্দোলনগুলো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করছে। তবে প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে ফলও ভিন্ন হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ এশিয়া (মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তরুণ বিক্ষোভকারীরা, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ, ইমরান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ), নেপালের ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর (নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!