📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক হলেও বৈরিতা কাম্য নয়। তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, খেলাপি ঋণ ৩৫.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২.৬ শতাংশে নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার।
সংসদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক হলেও বৈরিতা বা শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কাম্য নয় — এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এই কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, কিন্তু বৈরিতা কাম্য নয় — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সতর্কবার্তা
- 📌 ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের মর্যাদা রক্ষা — গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ নিষিদ্ধ
- 📌 খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার ৩৫ শতাংশ — ২০২৪ সালে সরকার ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল, বর্তমানে ৩২ শতাংশে নেমেছে
- 📌 ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ — বর্তমান সরকারের রেকর্ড অর্জন
- 📌 রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভাষা ব্যবহারের শালীনতা — পরিবারে ব্যবহারযোগ্য শব্দের বাইরে জনপরিসরে ব্যবহার নিষিদ্ধ
📰 বিস্তারিত
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালের জুনে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তীতে বিএনপির সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে। তবে ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হয় এবং ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেই দুঃশাসন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশকে বিশাল ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে পতিত সরকার খেলাপির হার ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার প্রকাশ পায় ৩৫ শতাংশ। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমিয়ে ৩২ শতাংশে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারও দেশের খেলাপি ঋণের অপবাদ দূর করতে সক্ষম হবে।
বৈদেশিক দেনা শোধের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা দেশের জনগণের কাঁধে এসেছে। দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার বিগত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার সফলভাবে পরিশোধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অবক্ষয় ঘটানো হয়েছিল। বর্তমানে দেশে অবাধ গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশ বিরাজ করায় বাকস্বাধীনতা সুনিশ্চিত হয়েছে। তিনি সকলকে শালীনতার সীমা অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভাষা ব্যবহারের শালীনতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, পরিবারে ব্যবহারযোগ্য শব্দের বাইরে জনপরিসরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
"গণতান্ত্রিক চর্চায় মতপার্থক্য বা প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে বৈরিতা বা শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কাম্য নয়। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে সবাইকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর, ১১ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ, ৩২ শতাংশ, ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!