📌 দলিত নারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের অভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন। গতকাল ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে এই চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। সরকার ও সংগঠনগুলোকে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে
দলিত নারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের অভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন। গতকাল রোববার ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অধিকার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে এই সমস্যা উঠে এসেছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলিত নারীরা জানান, তাদের এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছেন এবং নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দিতে চান না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার কেরানীগঞ্জের দলিত নারী সোনামনি মোদক বলেছেন, ‘আমার এলাকায় দলিতদের ১ হাজার ৮০০ ভোট আছে, কিন্তু নিরাপত্তা পাচ্ছি না’।
- 📌 দলিত নারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না কেনো? নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের অভাব, পরিবারের বাধা ও সমাজের কটূক্তি — এগুলো তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা।
- 📌 গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬৫ লাখ। তাদের মধ্যে নারীরা অধিক বৈষম্যের শিকার।
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। দলিত মানুষের চাহিদা জানতে হবে।
- 📌 বিএনপি-দলীয় তিন সংসদ সদস্য বলেছেন, পিছিয়ে পড়া দলিত নারীদের শুধু ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দিতে হবে।
- 📌 ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের (আইএফইএস) রুমানা আমিন বলেছেন, দলিত নারীদের সীমাবদ্ধতা দূর করতে করণীয় ঠিক করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
গতকাল অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে দলিত নারীরা তাদের সমস্যা তুলে ধরেন। সোনামনি মোদক, সাথী সরকার, লিপি সরকার, তিথি মণ্ডল ও শম্পা রানী দাশের মতো নারীরা জানান, তাদের এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছেন। তারা বলেন, ‘তুই পারবি নাকি!’ এমন ধমক দিয়ে তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ও সমর্থনের অভাবের কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬৫ লাখ। এই জনগোষ্ঠী ৫০টিরও বেশি সম্প্রদায়ে বিভক্ত এবং তারা বংশপরিচয় ও পেশার ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার। নারীরা আরও বেশি বৈষম্যের শিকার। তারা ভোটার হতে পারলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ কম পায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, দলিত মানুষের চাহিদা জানতে হবে এবং তাদের অধিকার আদায়ে সরকারকে সহায়তা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, আগের সরকারের মতো এই সরকারও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে না। তিনি বলেন, অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না, তা অর্জন করতে হবে।
বিএনপি-দলীয় তিন সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাধবী মারমা ও ফাহমিদা হক বলেন, পিছিয়ে পড়া দলিত নারীদের শুধু ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তারা বলেন, এলাকাভেদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে। নারী নেতৃত্বের বিকাশে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
"স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে যেসব এলাকায় দলিত ভোটার তুলনামূলক বেশি, সেখানে দলিত ভোটার ও গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার কারওয়ান বাজার, প্রথম আলো কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনামনি মোদক, সাথী সরকার, জহির উদ্দিন স্বপন, বিজন কান্তি সরকার, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাধবী মারমা, ফাহমিদা হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৮০০ ভোট, ৫৫-৬৫ লাখ দলিত, ৫০টি সম্প্রদায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!