📌 ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, এতে অর্থনৈতিক সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কথাও উল্লেখ করেছেন, যদিও তা নিশ্চিত নয়
ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের বিশ্লেষণ আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং বর্তমান ‘অলটারনেটিভস’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা থাকতে পারে। তবে এখনো স্পষ্ট নয় যে না যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ কী লাভ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যদিও কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই।
- 📌 ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যেমন ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সম্মেলনে অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের যুক্তিগততা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
- 📌 অর্থনৈতিক সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে না যাওয়ার ফলে, বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞের মতে, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হবে কি না এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেন্দ্রিক হওয়া উচিত, বলেছেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে ভারতের সম্ভাব্য চাপের কথাও বিবেচনা করা দরকার, কারণ ব্রিকস মূলত রাশিয়া-চীনকেন্দ্রিক সংস্থা।
- 📌 ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞ, যদি ভারতের কোনো চাপের প্রমাণ পাওয়া যায়।
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে ফেলা যাবে না। এতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা থাকতে পারে। তিনি বলেছেন, “এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, না যাওয়ার ফলে আমরা আসলে কী পেলাম? বিশেষ করে অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে।”
বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির আকার বড় করা। সেই লক্ষ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, “ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলাম কি না, সেটার যথাযথ বিশ্লেষণ করা দরকার।”
ইমতিয়াজ আহমেদ যুক্তি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কথাও বিবেচনা করা দরকার। তবে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যেমন ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্রিকসে অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের যুক্তিগততা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি বলেছেন, “শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কাজ করবে—এই যুক্তি আমার কাছে খুব একটা যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয় না।”
বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের সম্ভাব্য চাপের কথাও বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেছেন, “ব্রিকস মূলত রাশিয়া-চীনকেন্দ্রিক একটি সংস্থা। ভারত এখানে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টার মধ্যে ভারত হয়তো চায়নি বাংলাদেশও এই কাঠামোয় সরাসরি যুক্ত হোক।”
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, “আমি মনে করি যে ভারত, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কী চায় বা চায় না—এসবের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বাহ্যিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করলে তা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না।”
"আমি সব সময় বলে এসেছি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেন্দ্রিক হওয়া দরকার। এটা কোনো একটি মাত্র সম্মেলনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং একটা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি (ব্রিকস সম্মেলন), ঢাকা (বিশ্লেষণ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ (বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ (ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!