📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে 'বাংলাদেশি' পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভাজন প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন
- 📌 তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’ — ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার নীতির প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন
- 📌 প্রধানমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দেড় দশকের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছে
- 📌 তিনি সতর্ক করে দেন যে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও গুজব দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এবং সবাইকে সম্প্রীতির পরিবেশ রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে
- 📌 সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদানের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বলে উল্লেখ করেন
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের সবার গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।’
সনাতন ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল, যখন সেখানে অত্যাচারী শাসক কংসের রাজত্ব চলছিল। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে এবং দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিস্ট শাসকরা জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের জনগণ প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে এবং দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ বা আমেরিকায় গেলে সবাই কথিত সংখ্যালঘু হয়ে যায়। তাই রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্ম, বর্ণ বা দলের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেন, আবহমানকাল থেকেই বাংলাদেশে সব মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সময়ে সময়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হলেও তা প্রতিহত করতে হবে।
দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব রটানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন জরুরি। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডসহ সব ধর্মের গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যা সাধ্য অনুযায়ী সব ধর্মের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ — এই নীতিতে সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তিনি আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানান।
‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের সবার গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দেড় দশকের বেশি সময়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!